লিটন দাস © টিডিসি ফটো
রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্সের মধ্যকার এলিমিনেটরের ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনটি যেন আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে রূপ নিয়েছিল। যেখানে বাংলাদেশ-ভারতের শীতল রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষিতে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর জবাবে যেন একের পর এক বাউন্সার মারছিলেন লিটন দাস অর্থাৎ সরাসরি কোনো মন্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এক সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক লিটনকে বিশেষ শর্ত দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, যদি প্রশ্নটি তার (লিটন) কাছে নিরাপদ মনে না হয়, তাহলে তা এড়িয়ে যেতে পারেন। লিটন এই সুযোগ বুঝে সম্মানের সঙ্গে জানালেন, “নিরাপদ নয়। নো অ্যানসার। আমি বুঝতে পারছি আপনি কী প্রশ্ন করতে চাচ্ছেন। সেটা আমার জন্য সেফ নয়।” একইসঙ্গে লিটন বিনয়ের সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন যে বিষয়টি তার কাছে আসলেই স্পর্শকাতর।
বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। এ ছাড়া কোথায় ম্যাচ, কোন ভেন্যুতে হবে; এই প্রশ্নগুলো ক্রিকেটারদের মানসিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইস্যুতে লিটন স্মরণ করালেন, জীবনে অনেক কিছুই আইডিয়েল না, কিন্তু গ্রহণ করে নিতে হয়।
লিটনের ভাষায়, ‘২৩ তারিখ বিপিএল শেষ। বিশ্বকাপ এখনো ১৪ দিন বাকি। এখন মেন্টালি ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ পাব। দেখেন, জীবনে অনেক কিছুই তো আদর্শ না। সেগুলো চলে আসলে মানিয়ে নিতে হবে। বিপিএলেও অনেকগুলো ম্যাচ খেললাম, সেটাও তো আদর্শ না।’
এই অনিশ্চয়তার সূচনা ঘটে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার পরপরই। আর ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ছায়ায় মোস্তাফিজ যেন বিতর্কের অমোঘ প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর থেকে বিসিবি বারবার আইসিসির সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছে, একাধিক ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে, ঢাকায় প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে, তবুও কেন জানি অদৃশ্য কারণে স্থির সমাধান হয়নি।
এদিকে লিটন দাসের ওপরও দায়িত্ব বেড়েছিল। গেল ৪ জানুয়ারি, বিসিবি তাকে অধিনায়ক ঘোষণা করেই বিশ্বকাপ স্কোয়াড দেয়। পাশাপাশি, বিপিএলের শেষ ভাগে রংপুর রাইডার্সের নেতৃত্বও তার কাঁধে এসেছিল। কিন্তু যেই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ঘিরে এতসব আয়োজন, সেখানে আদ্যো ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের লড়াই করা হবে কি না, তা নিয়েই হাজারও প্রশ্ন-অনিশ্চয়তা!
লিটন এ-ও বলছেন, এখনও তার সঙ্গে বোর্ড এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। যদিও সংবাদ সম্মেলনে এসব ব্যাপার নিয়ে কোনো মন্তব্যই করতে চাননি লিটন। যে কারণে এদিন একাধিক প্রশ্নও এড়িয়ে যান তিনি।
একই সময়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে বিপিএল কতটা কাজে আসবে, এ বিষয়েও লিটন কৌশলীভাবে বললেন, “জানি না। বিশ্বকাপ এখনও অনেক দূরে। আমরা যাব কি না, তাও নিশ্চিত নয়। টি-টোয়েন্টির জন্য এই উইকেট আদর্শ নয়। বিশ্বকাপের জন্য কেমন হবে, সেটা আমি জানি না।”
সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের আগমন যত কাছে আসছে, অনিশ্চয়তার পরিধিও তত বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে! এ যেন ক্রিকেটের মঞ্চে আরেকটি নাটক, যার সমাধান এখনও অদৃশ্য।