ফারুক আহমেদ © সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন জোরালো হচ্ছিল। নানা সিদ্ধান্ত ও কার্যকলাপের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। যদিও তিনি সময় সময় সেসব সমালোচনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তবে পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এর প্রেক্ষিতে সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে শুরু করেছে।
এই প্রেক্ষাপটেই গতকাল রাতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বাসায় দেখা করেন ফারুক আহমেদ। সেখানে বিসিবির আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলেও মূলত বোর্ডের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয় ফারুককে।
সরকার যদি সরাসরি ফারুককে পদচ্যুত করে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিষয়টিকে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখাতে পারে। এতে দেশের ক্রিকেট নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণেই ফারুক নিজে থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিসিবির সভাপতি পদ ছাড়েন নাজমুল হাসান পাপন। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে ফারুক আহমেদ ও নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে বোর্ড পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানে ফারুককে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই তার কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তাকে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ মাঠের ক্রিকেটে দুর্বলতার জন্যও সমালোচনা করা হয়।
সরকার মনোনীত প্রতিনিধি হওয়ায় প্রয়োজনে ফারুককে সরাতে তেমন জটিলতা নেই। তবে সরকার স্পষ্টভাবে তার সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেওয়ায় পদত্যাগ এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
এদিকে হঠাৎ ঢাকায় এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শুরুতে জানা গিয়েছিল, পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি এসেছেন। তবে তিনি বর্তমানে আইসিসিতে কর্মরত এবং ছুটি নিয়ে দেশে এলেও জোর গুঞ্জন উঠেছে, তাকেই বিসিবির পরবর্তী সভাপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই নিশ্চিত হয়নি।
সব মিলিয়ে বিসিবির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। আগামী কয়েক দিন মাঠের খেলা নয়, বরং বিসিবির নেতৃত্বেই থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ।