মিরপুরে অগ্নিকাণ্ড
ইনসাইটে নিহত মাহিরা, বড় মেয়ে ও মায়ের আহাজারি © টিডিসি ফটো
তিন বছর বয়সেই বাবা হারান ছোট মাহিরা। বড় বোন সানজিদাকে নিয়ে মা ফাতেমা গার্মেন্টেসে কাজ করে মেয়েদের মানুষ করতে নিজেও আর করেননি বিয়ে। শত কষ্টেও বড় মেয়েকে সপ্তম ও ছোট মেয়ে মাহিরা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াচ্ছিলেন। সে সময় মাহিরার মা এজমা তথা শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে আর পোশাক শিল্পের কাজে ফিরতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়েই বাসা-বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছিল তার। যদিও সেই সাধ-সাধ্যও ক’দিন পর হারিয়ে গিয়েছিল মাহিরার মায়ে। নতুন করে শুরু হয় পুরনো শ্বাসকষ্ট, যার ধকল সইতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায় বাসা-বাড়ির কাজও।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে গল্পে-আলাপে যেন নিজ পরিবারের এমন একগাদা দুঃখ-কষ্টের গল্পই জুড়ে দিলেন বড় বোন সানজিদা। তার ভাষ্য, ‘মাকে সহায়তা করতে গিয়ে প্রথমে আমি লেখাপড়া ছেড়ে মীর ফ্যাশন গার্মেন্টসে চকরি নেই। তাতেও ছোট বোনের পড়া ও মায়ের চিকিৎসা খরচ মিটছিল না। তাই অনেকটা অসহায় হয়েই কিছুদিন পর ছোট বোন মাহিরাও লেখাপড়া ছেড়ে দেন। পরিবারকে সাপোর্ট দিতেই চলতি মাসে আরএন ফ্যাশনে কাজে যোগ দেন মাহিরা।’
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুরস্থ শিয়ালবাড়ি অফিসের ৩ নং ফ্লোরে কাজ করছিলন মাহিরা। সেখানেই ঘটে ওই দুর্ঘটনা।
বোন সানজিদার বক্তব্য, প্রতিদিনের মতই ওইদিন মিরপুর-৯'র ভাড়া বাসা থেকে আরএন ফ্যাশনে কাজ করতে গিয়েছিলেন মাহিরা। সেখানেই হঠাৎ আগুনের ধোয়া শুরু হওয়ায় বের হতে পারেনি সে। কিন্তু সে জানতো না মায়ের কষ্ট লাঘব ও পরিবারকে সাপোর্ট দিতে ওইটাই ছিল তার শেষ দিন।
উল্লেখ্য, ১৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর শিয়ারবাড়ির শাহ আলম ক্যামিক্যাল নামে একটি রাসায়নিকের গোডাউনে আগুন লাগার পর তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের একটি গার্মেন্টস আরএন ফ্যাশনে কারখানায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌনে ১২টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত মোট ১২টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। সর্বশেষ ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ম্যাচিংয়ে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হওয়ায় এখনও ১৬ মরদেহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে। স্বভাবতই বিলম্বিত হচ্ছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া; আর অবস্থায় স্বজনরা তাকিয়ে আছেন প্রশাসনের দিকে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ব্যবসায়ীরা নিয়ম-নীতি মানছেন না, অবৈধভাবে রাসায়নিক গুদাম তৈরি করেছেন। তাদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর, অবৈধ কেমিক্যাল গুদাম মালিকদের আইনের আওতায় আনা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।