প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও একদল বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ফেরত পাঠানো নাগরিকের সংখ্যা ৩৫ জন হলেও চূড়ান্ত সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অবহিত হয়েছে।
ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেরত আসা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করে দেশে গ্রহণ করা হবে। এরপর ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।
২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৯ জানুয়ারি তার একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন থেকে ভারত, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক, এমনকি হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে ফেরত পাঠানো হয়; যা নিয়ে মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এছাড়া ২০২৩ সালের ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমানে ৩৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যাদের মধ্যে এক নারীও ছিলেন। ফেরত আসা নাগরিকদের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৬০ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রায় তাদের হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছিল, যার ফলে অনেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঢাকায় পৌঁছার পর কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সূত্র অনুযায়ী, এর আগে বিভিন্ন সময়ে ১৫৭ বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়। এবার নতুন করে ৩৫ জন ফেরত এলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৯২ জনে।
গত ৮ জুন আরেকটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তখন ১৬ জনের পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাই নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। তাদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রে একটি মামলায় হেরে যাওয়ার পরও সেখানে অবস্থান করছিলেন, অন্য একজন আলাদা মামলায় দণ্ডিত হয়েছিলেন। সবাইকে অনিয়মিত অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।