মসজিদের জন্য জমি না দেয়ায় এক মাস ধরে ‘একঘরে’ অবস্থায় কৃষক পরিবার © টিডিসি ফটো
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় মসজিদের জন্য জমি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কৃষক মো. আইয়ুব আলী ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে ‘একঘরে’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক মাস ধরে তাঁদের সঙ্গে স্থানীয়দের একটি অংশ কথা বলছেন না এবং বাড়িতে যাতায়াতও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে ফসল নিয়ে যাওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আইয়ুব আলী।
আইয়ুব আলী উপজেলার নরকোনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে কৃষিকাজ করে আসছেন। বড় মেয়ের বিয়ের পর বর্তমানে স্ত্রী হাসিনা খাতুন ও সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে রায়হান আলীকে নিয়ে তাঁর সংসার। সম্প্রতি বাড়ির পাশে সোয়া ৩ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় সমাজের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে জানান তিনি।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আইয়ুব আলী জানান, স্থানীয় কয়েকজন ওই জমিটি মসজিদের জন্য কেনার বিষয়ে তাঁকে চাপ দেন। তবে তিনি আগের মালিক পারভীন আক্তারের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। পরে এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক বৈঠক হয় এবং সেখানে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
আইয়ুব আলী বলেন, এরপর থেকে স্থানীয়দের অনেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন না। কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বললে তাকেও সামাজিকভাবে একঘরে করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আত্মীয়স্বজন বাড়িতে এলে তাঁদেরও চলে যেতে বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁর ফসলি জমিতে চাষাবাদে বাধা এবং দলবদ্ধভাবে ফসল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন আইয়ুব আলী।
আইয়ুব আলীর স্ত্রী হাসিনা খাতুন বলেন, তাঁদের বাড়ির পাশ দিয়ে মসজিদ ও রাস্তা রয়েছে, এরপর তাঁদের বাড়ি এবং তার পাশে বিরোধপূর্ণ জমিটি। তাঁরা বৈধভাবে জমিটি কিনেছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, কেনার পরে জানতে পারেন জমিটি মসজিদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার দাবি রয়েছে। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসিনা খাতুন আরও বলেন, প্রতিবেশীদের অনেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন না এবং বাড়িতেও আসেন না। প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তাঁরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তবে স্থানীয় নরকোনা মধ্যপাড়া বাইতুল নূর জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ তাহেরসহ সমাজের কয়েকজন সদস্যের দাবি, মসজিদের জন্য জমি কেনাকে কেন্দ্র করেই সামাজিক বৈঠক হয়েছিল। তাঁদের ভাষ্য, বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; মসজিদ ও সমাজের স্বার্থে জমি নিয়ে আলোচনার মধ্য থেকেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের সবার সিদ্ধান্তে আইয়ুব আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও তাঁরা জানান।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, আইয়ুব আলীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করেছে। বাড়ির পাশের জমি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর পরিবারের বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে এবং একপর্যায়ে সামাজিকভাবে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
কামরুল ইসলাম আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।