আহত আহত শ্রমিককে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় © সংগৃহীত
কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি কালভার্টে মাটি ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দরিয়ানগর থেকে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়গামী সড়কের একটি কালভার্ট নির্মাণকাজ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকদের নাম মো. ইলিয়াছ ও রাকিব। আহত শ্রমিকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে কয়েকজন শ্রমিক নির্মাণাধীন কালভার্টের নিচে ও আশপাশে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎই কালভার্ট-সংলগ্ন বিশাল অংশের মাটি ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই তিন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে চিৎকার-আর্তনাদ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন।
দীর্ঘ চেষ্টার পর মাটিচাপা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন।
নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাকি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান মজুমদার জানান, শ্রমিকরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে কালভার্ট নির্মাণে নিয়োজিত ছিলেন। কাজ চলাকালে হঠাৎ পাশের মাটি ধসে পড়ায় তারা চাপা পড়ে যান।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুবক্তগীন মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজন শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অপর একজন শ্রমিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন।’
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহত দুই শ্রমিকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে।
এদিকে এ দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর খননকাজ বা কালভার্ট নির্মাণের সময় মাটি ধস রোধে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহত শ্রমিকদের সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।