হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও তার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন © সংগৃহীত
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নতুন পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পাওয়ায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্থানীয় সরকার বিভাগের ৪৬.০৪২.০৩৩.০৩.০০.১৪৭.১১.১১২২ নং স্মারকের এক প্রজ্ঞাপনমূলে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালীন তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন এবং বিধি মোতাবেক সব ধরনের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই জেলাজুড়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। গত বুধবার (৩ জুন) হঠাৎই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে যে হাবিবুল ইসলাম হাবিব প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এরপরই দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তখন তৈরি হয় এক নাটকীয়তা। বাবার নিয়োগের কোনো আনুষ্ঠানিক খবর না পেয়ে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মেয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে লেখেন, ‘আমার জানামতে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক এখনো প্রকাশ হয়নি। আর আপনারা অভিনন্দন জানাচ্ছেন?’
আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পর সব সংশয় কেটে যায়। এরপরই তার মেয়ে ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নতুন একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আপনাদের অগ্রিম অভিনন্দন বৃথা গেল না। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে।’
হাবিবুল ইসলাম হাবিব সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে তীব্র দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। পরাজয়ের পরও নির্বাচনী এলাকা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক বজায় ছিল, যার প্রতিফলন ঘটল এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের মাধ্যমে।
হাবিবুল ইসলাম হাবিবের রাজনৈতিক জীবন নানা চড়াই-উতরাইয়ে পূর্ণ। ২০০২ সালে কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় ঘটনার ১২ বছর পর কলারোয়া থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় আদালতে পৃথক তিনটি চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে আদালত সাবেক এমপি হাবিবসহ ৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। এর মধ্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে সর্বোচ্চ ৭০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ দিন কারাভোগের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান এই জনপ্রিয় বিএনপি নেতা।
অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের শীর্ষ পদে আসীন হলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তার এই নিয়োগে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।