নিহত মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন © টিডিসি ফটো
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সংসার করতে স্ত্রীর দেওয়া ৯টি শর্ত মানতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। বুধবার (৬ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সুফিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (২৩)। তিনি ওই এলাকার জবিউল ডাক্তারের ছোট ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে আনোয়ার হোসেন একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মান্নানের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তারকে বিয়ে করেন। বিবাহের পর থেকে তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ চলছিল। একপর্যায়ে স্ত্রী ইয়াসমিন আনোয়ারের সাথে সংসার করার জন্য লিখিতভাবে ৯টি শর্ত দেন।
শর্তগুলো হলো- আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সংসারে আনোয়ারের মা-বোনের কোনো কথা শোনা ও বলা যাবে না। আমি যতই আপরাধ করি, আমার গায়ে আঘাত করা যাবে না। আমার স্বর্ণালংকার আমাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। দেনমোহরের পরিবর্তে ২০ শতাংশ জমি আমার নামে লিখে দিতে হবে। আমার সাংসারিক বিষয় নিয়ে কোনো দোষ খুঁজতে পারবে না, বিনা কারণে ঝগড়া করতে পারবে না। বাবার বাড়ি থেকে কোনো কিছু নেওয়ার জন্য জোর করা যাবে না। ননদ ও তার স্বামীরা আমার সংসারের বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারবে না। আমার বাবার বাড়িতে আসা-যাওয়ার জন্য কোনো প্রকার নিষেধ করা যাবে না। সব রকম স্বাধীনতা আমাকে দেওয়া লাগবে মর্মে এ ৯টি শর্ত লিখিতভাবে স্বামী আনোয়ারকে দেন স্ত্রী ইয়াসমিন।
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ইয়াসমিনের এসব অযৌক্তিক শর্ত মেনে নেওয়া আনোয়ারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। এ নিয়ে সোমবার (৪ মে) আনোয়ার তার শ্বশুর আব্দুল মান্নানের কাছে বিচার চাইতে গেলে উল্টো শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে অপমান করেন। এই অপমান এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজ বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যা করেন আনোয়ার।
এ বিষয়ে স্ত্রী ইয়াসমিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে কাউকে পাওয়া যায়নি।
রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।