বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের কুকুর শিকার © টিডিসি ফটো
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন ঠাকুর দিঘিতে কুমিরের একটি কুকুর শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গত বুধবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত ভিডিও তৈরি করে দাবি করছে যে, কুকুরটির পা বেঁধে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের নিরাপত্তা কর্মীরা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুকুরটি বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ও ক্ষিপ্ত ছিল এবং ঘটনার দিন হঠাৎ মাজারের ঘাটে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন দর্শনার্থীকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আতঙ্কিত কুকুরটি নিজে থেকেই ঘাটের কিনারে নেমে গেলে দিঘিতে থাকা কুমিরটি তাকে শিকার করে নিয়ে যায়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে অপপ্রচার বন্ধে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন মাজারের খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানান, সেখানে উপস্থিত মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, বরং কুকুরটি অসুস্থ হয়ে সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করার পর এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কুকুরকে পা বেঁধে কুমিরের সামনে দেওয়ার কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়াচ্ছে। বর্তমানে এই দিঘিতে ২০০৫ সালে মাদ্রাজ থেকে আনা একটি মাত্র কুমির রয়েছে। প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো বানোয়াট তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।