ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতাকর্মীরা © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচরে মধ্যযুগীয় কায়দায় ছাত্রদলের ৮ নেতাকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. সোহেল বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। তিনি ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ সেলিমের অনুসারী।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে এমন অভিযোগ তোলেন হামলার শিকার ২০ নং আন্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভুক্তভোগী সদস্যরা।
ভুক্তভোগীরা হলেন, সদর উপজেলা প্রজন্ম দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. রনি, আন্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব, আন্ডারচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো. তাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য মো. রাকিব, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য মো. রাসেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য মো. ইউছুফ ও ইউনিয়ন ছাত্রদল কর্মী মো. আকরাম।
তারা অভিযোগ করে বলেন, ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় বন্ধুদের সাথে আমরা বাংলাবাজার এলাকায় ৮-১০ জন যুবক যাই। পরে স্থানীয় সোহেল নামের এক ব্যক্তি তাদের পূর্ব শত্রুতার প্রতিপক্ষ ভেবে আমাদেরকে শেখ সেলিমের অফিসে আটকে রাখে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু হামলা-মারামারিতে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি। এর কিছুক্ষণ পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেখানে হেলমেট পরিহিত কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র, হকিস্টিক, রড ও পাইপ নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করে এবং আমাদেরকে নির্জন জায়গায় নিয়ে হাত, চোখ-মুখ বেঁধে ধাপে ধাপে মারধর করতে থাকে।
নির্যাতনের সময় লাঠি, রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, আন্ডারচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ সেলিম, মো. সোহেল, রুহুল আমিন ও মামুন মেম্বারের ইন্ধনেই এ ঘটনা ঘটেছে। তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। ভুক্তভোগীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে এবং হত্যার উদ্দেশ্যেই এমন নির্যাতন করা হয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত মো. সোহেল বলেন, শুনেছি আমাকে খোঁজার উদ্দেশ্য কয়েকজন লোক এসেছে। খবর পেয়ে তাদের কাছে ছুটে যাই এবং বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করি। এর মধ্যে হঠাৎ করে কয়েকজন লোক অফিসে প্রবেশ করে এবং তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আমি নিজেও আহত হই। আমি উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত নই।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, ঘটনাটি শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মারধরের শিকার কয়েকজন যুবক কোনো পক্ষের কিনা এমন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।