ছাত্রলীগ নেতা সাজেদুর রহমান © সংগৃহীত
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি না ছাড়ায় নিজের ছেলেকে এফিডেভিটের মাধ্যমে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করেছেন বাবা মীর মো. আব্দুল মালেক। নেত্রকোনায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
জানা গেছে, গত ৬ মার্চ নেত্রকোনা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিট (নং–৩১০) করে নিজের ছেলে মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটনকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন আব্দুল মালেক। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকার বাসিন্দা। জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. আজিজুল হকের মাধ্যমে এ এফিডেভিট সম্পন্ন করা হয়।
মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি সর্বশেষ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল।
এফিডেভিটে আব্দুল মালেক উল্লেখ করেন, সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরও তার ছেলে সংগঠনটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং ভবিষ্যতে তার কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায়ভার তিনি নেবেন না বলেও ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে আব্দুল মালেক বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেও ছেলেকে ওই রাজনীতি থেকে ফেরাতে পারিনি। তাই তার মঙ্গলের জন্যই ত্যাজ্যপুত্র করেছি।’
অন্যদিকে সাজেদুর রহমান ছোটন দাবি করেন, পরিবারের সবাই বিএনপি করায় প্রায় তিন বছর ধরে তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। এমনকি গত আগস্ট মাসে তার বাবা ফেসবুকে তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। তবে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হলেও নিজের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলেও জানান তিনি।