বক্তব্য রাখছেন চবি শাখা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক রাফসান রাকিব © সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রাম নগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। এ সময় বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতে টালবাহানা করা হলে আন্দোলনের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন সংগঠনটির চবি শাখার আহ্বায়ক রাফসান রাকিব।
আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুমা নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি কাজীর দেউড়ি এলাকায় সমাবেশে রূপ নেয়।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাফসান রাকিব বলেন, ‘আমরা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের জন্য এখানে এসেছি। আমরা কেউ বিচার না নিয়ে রাজপথ ছেড়ে যাব? আপনাদেরকে বলি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনায় ৫টি টিম ছিল, বাকি ৪টি টিমের উল্লেখ চার্জশিটে নাই কেন?’
তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিম সরকার আমাদের সাথে টালবাহানা করছে। আমরা চট্টগ্রাম থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, যদি আমাদের সাথে টালবাহানা করা হয় তাহলে আমরা চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিব।’
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সাবেক নেতা ইবনে হোসেন জিয়াদ বলেন, ‘হাদি হত্যার বিচার নিয়ে ইন্টেরিম টালবাহানা শুরু করে দিয়েছে। বিচার না হলে প্রয়োজনে আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ইন্টেরিমকে অপসারণে আন্দোলন করা হবে।’
জুলাই ঐক্য চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী আবরার হাসান রিয়াদ সমাবেশে বলেন, ‘তাড়াহুড়া করে একটা চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভুল তথ্য দিয়েছে। চার্জশিটের ভুলগুলো আমাদের ইনকিলাব মঞ্চের ভাইয়েরা তুলে ধরেছেন। মূল আসামিদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে। না হয় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
এদিকে বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পর ব্যাখ্যামূলক স্ট্যাটাস দিয়েছেন রাফসান রাকিব। তিনি লিখেছেন, ‘এই বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটায় কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও পুরো বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, যদি ইন্টেরিম এভাবে টালবাহানা করতেই থাকে তাহলে আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বাংলাদেশ থেকে চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করব। যেমনটি গত আন্দোলনে আমরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে ৩ ঘন্টার জন্য কক্সবাজারকে বিচ্ছিন্ন করেছিলাম। অথচ এটাকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বক্তব্যের কাটপিস ব্যাবহার করে।’