মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবককে উদ্ধার করা নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন © টিডিসি
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাতের রেশ এসে পড়ছে বাংলাদেশেও। কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২২) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন, যা সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে ‘শাহাজাহান দ্বীপে’ এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাছ ধরতে যাওয়া সীমান্তের নাফ নদে একজন যুবক মাইন বিষ্ফোরণের খবর পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জেনেছি, সীমান্তের কাছাকাছি কিছু জায়গায় মাইন পুঁতে রাখার হয়েছে। নির্দিষ্ট কোন জায়গায় রয়েছে, সেটি জানতে আমরা কাজ করছি। তবে আমরা স্থানীয় লোকজনকে সচেতনতা করছি যাতে, সীমান্তে ঘোরাঘুরি না করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে আমরা টহল বৃদ্ধি করেছি। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি।’
এদিকে মাইন বিস্ফোরণের খবরে টেকনাফ-হোয়াইক্যং সড়কে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি গতকাল গুলিতে আহত শিশু হুফাইজা আফনান চিকিৎসা-নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধনও করেছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সড়ক যানজট চলাচল স্বাভাবিকের চেষ্টা চালাচ্ছে।
হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিলের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন বলেন, ‘সকালে আমরা মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত শিশু হুফাইজা আফনানের চিকিৎসাসহ স্থানীয় মানুষের দাবিতে সরকারে সহযোগিতা চেয়ে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম। এ সময় খবর আসে সীমান্তে নাফ নদে একজন জেলে মাইন বিস্ফোরণের খবর আসে। এ সময় স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে। এভাবে নিরাপত্তাহীন কিভাবে সীমান্তের মানুষ বসবাস করবে। যেকোনো সময় আমরা মৃত্যুর মুখে রয়েছি। আমরা শান্তি চাই, জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বাচঁতে চাই।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘সীমান্তে একজেলে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। এ ছাড়া হোয়াইক্যং সীমান্তের গোলাগুলির কারণে সীমান্তের বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। সড়ক অবরোধ সরানোর চেষ্টা চলছে।’
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বাংলাদেশ সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরেই ব্যাপক সংঘাত চলছিল। মূলত রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলছে এই সংঘাত। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনীর আক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে প্রচন্ড গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত ছিলেন সীমান্তবাসী। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে এক শিশুসহ দুজন আহত হয়েছিল। এ ছাড়া সীমান্তের ওপারে সংঘাতের জেরে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি।