স্কুলছাত্রী নিহতের প্রতিবাদে অবরোধ স্থানীয়দের © সংগৃহীত
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আফনান ওরফে পুতুনি (১২) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউপির তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আফনান ওরফে পুতুনি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে। সে লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভে কক্সবাজার-টেকনাফ প্রধান সড়কের লম্বাবিল এবং টেচ্ছাবিজ্র এলাকায় অবরোধ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র।
স্থানীয়দের বরাতে খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, আজ সকালে টেকনাফে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত এক ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে পিছু হটে অবস্থান নেয়। এতে সকাল ৯টার দিকে আবারও উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এ সময় মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া গুলি সীমান্তের বাংলাদেশি এক বসত ঘরে আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। তবে ঘটনায় আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাতভর গোলাগুলির ঘটনা চলছিল। এর মধ্য ওপার থেকে আসা গুলিতে স্থানীয় এক শিশু নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা বিক্ষোভ করছেন। সড়কে যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে সেটা নিয়ে কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহামদ আমিন বলেন, টানা কয়েকদিন ধরে এই সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ঘটনা চলছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকে শুরু গোলাগুলি আজ রোববার ভোরে থেমছে। এতে সীমান্তের মানুষের নির্ঘুমের পাশাপাশি আতঙ্কের মধ্য জীবন পার করছে। এছাড়া আজকে মিয়ানমারে থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্য চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।
উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির খবর শুনেছি। আমরা খোঁজ খবর রাখছি। পাশাপাশি যাতে কোনোভাবে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে না পারে আমরা সর্তক অবস্থানে রয়েছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে এক শিশু নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। এছাড়া হোয়াইক্যং সীমান্তের গোলাগুলির কারনে সীমান্তের বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। সড়ক অবরোধ সরানোর চেষ্টা চলছে।