এইচএসসির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ: পথ পাড়ি দেওয়া কতটা কঠিন?

২৩ মে ২০২৫, ১২:১৩ PM , আপডেট: ২৬ মে ২০২৫, ১১:৫৫ AM
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থী © ফাইল ছবি

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২৬ জুন শুরু হচ্ছে। শেষ হবে ১০ আগস্ট। ইতোমধ্যে এ পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জীবনে এ পরীক্ষার গুরুত্ব অনেক। কারণ এরপরই শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ। জীবনে পড়াশোনার এ ধাপে ভালো একটি জায়গা নিজের জন্য ঠিক করে নেওয়া বেশ কঠিনও বটে।

চলতি দশকের শুরুরে করোনার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা ছিল টালমাটাল। এরপর কোটা সংস্কার ও পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। সবমিলিয়ে গত কয়েক বছর ধরে ভিন্ন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তারা। আগের বছর পুরো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হয়নি। ১৩টি পত্রের মধ্যে সাতটির পরীক্ষা হয়েছিল। বাকি পরীক্ষাগুলো বাতিল করে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফলাফল প্রকাশ করে শিক্ষাবোর্ডগুলো। 

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নেন। এ জন্য অধিকাংশই কোচিংয়ে ভর্তি হন। নিজে নিজে প্রস্তুতিও নেন কেউ কেউ। এখন অবশ্য অনেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গেই এ প্রস্তুতি শুরু করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি এদিকটাতে সময় বের করতে পারলে অবশ্য সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ক্ষেত্রে তাকে এগিয়েই রাখবে।

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নেন। এ জন্য অধিকাংশই কোচিংয়ে ভর্তি হন। নিজে নিজে প্রস্তুতিও নেন কেউ কেউ। এখন অবশ্য অনেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গেই এ প্রস্তুতি শুরু করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি এদিকটাতে সময় বের করতে পারলে অবশ্য সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ক্ষেত্রে তাকে এগিয়েই রাখবে।

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক হওয়ায় চান্স পাওয়াটা বেশ সহজ। তবে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় একটি আসন নিজের করে নেওয়া মোটেও সহজ নয়। এর মধ্যে বুয়েট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে কাঙিক্ষত বিষয়ে ভর্তির জন্য ভালো প্রস্তুতির পাশাপাশি ভাগ্যেরও একটা ব্যাপার আছে। 

নিজের কথা দিয়েই শুরু করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে যে খুব আহামরি প্রস্তুতি ছিল, তা নয়। প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েক ঘণ্টা করে প্রস্তুতি নিয়েছি। কোচিংয়ের ক্লাসগুলো নিয়মিত করেছি। অবশ্য কোচিংয়ের পরীক্ষায় শতাধিক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মধ্যে আমার অবস্থান থাকতো ৫০ এরও পরে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নিয়মে পরীক্ষা হতো, সে নিয়মে নেওয়া কোচিংয়ের পরীক্ষায় এভাবে পিছিয়ে থাকা মানে চান্স না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি- আমার মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল। তবে আমার সে বিশ্বাস বদলে দিয়েছিলেন কয়েকজন শিক্ষক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত কয়েকজন বড় ভাই।

আমাকে তারা বলেছিলেন, ভর্তি পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার জন্য ভালো প্রস্তুতি জরুরি। তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা আমাকে বলেছিলেন, সেটি থাকলেই প্রস্তুতিতে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। তা হলো, ‘আত্মবিশ্বাস’। এটিই আসলে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

অনেকে কোচিং কিংবা মডেল টেস্ট পরীক্ষায় ভালো ফল করতে না পারলে আশাহত হন। তারা ভাবেন, আমার আর চান্স পাওয়া হবে না। বাস্তবতা আসলে তা নয়। কোচিংয়ের এসব পরীক্ষায় সাধারণত একটু জটিল বা কঠিন প্রশ্ন করা হয়। ফলে নম্বর তোলা কঠিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কোচিং বা মডেল টেস্টের মতো নয়। এ পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয় সবদিক বিবেচনা করেই। ফলে অতটা জটিল হয় না, মানসম্মত প্রশ্ন করা হয়। সে হিসেবে প্রশ্ন থাকে বেশ সহজ, কিন্তু কৌশলী (ট্রিকি)। সে কারণে কোচিং বা মডেল টেস্টের প্রশ্নে হতাশ না হয়ে প্রস্তুতি ভালোভাবে চালিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন: গতরাতের একটি ভাবনা আমাকে ঘুমাতে দেয়নি—শেয়ার করলেন তাসনিম জারা

আরেকটি বিষয় হলো, পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে বসে অনেকে ঘাবড়ে যান। কি প্রশ্ন আসবে? কেমন পরীক্ষা নেবে তারা? চান্স পাব তো? এমন নানা ধরনের প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায় তাদের। পরীক্ষার আগে এ ধরনের চিন্তা বাদ দিতে হবে। আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে, যে প্রশ্নই আসুক, আমি উত্তর দিতে পারব।

দেশে বিশ্ববিদ্যালয় তো একটি নয়। অনেকগুলো ভালো বিশ্ববিদ্যালয় এখন রয়েছে। একটিতে না হলে আরেকটিতে হবে। ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। এভাবে যদি মনটাকে পরীক্ষার আগে ফ্রেশ রাখা যায়, তাহলে সাফল্য ধরা দিতে বাধ্য। আমার ক্ষেত্রে এ কাজটিই হয়েছিল। পরীক্ষার দিন নিজে স্বাভাবিক থাকতে পারা আমার চান্স পেতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষাটা দিতে পেরেছিলাম।

প্রস্তুতি না থাকলেও দ্বিতীয়বারও ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলাম। তবে প্রথমবারে চান্স পাওয়া বিষয়েই শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেছি। এখানে বলে রাখা ভালো, আমাদের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইবার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা শেষের পর। সে কারণে প্রতিটি দিন, প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতিটা ভালোভাবে নিলে আর আত্মবিশ্বাস রাখলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। শুভ কামনা উচ্চশিক্ষার দুয়ারে কড়া নাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য।

লেখক: সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী

আপনার ওয়াইফাই স্লো? সমাধানে এখনই বদলে ফেলুন এই ৪ সেটিংস
  • ২১ মার্চ ২০২৬
ঢাবি এলাকায় ছিন্নমূল মানুষদের ঈদ উপহার দিলেন ছাত্রদল নেতা জ…
  • ২১ মার্চ ২০২৬
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা নিহত
  • ২১ মার্চ ২০২৬
কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ২১ মার্চ ২০২৬
কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় নবীন ফ্যাশন ‘বন্ধ করে দিলেন’ অ…
  • ২১ মার্চ ২০২৬
ঈদের বন্ধে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে চুরির চেষ্টা, ধরতে গিয়ে আন…
  • ২১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence