পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা © ফাইল ফটো
চলমান করোনা ভাইরাসের কারণে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীকে ‘ফেল’ কিংবা ‘পাশ’ দেয়া হবে না। শুধুমাত্র পরীক্ষায় প্রাপ্ত নাম্বার ছাত্র-ছাত্রীদের জানিয়ে দেয়া হবে। পরবর্তীতে সেই নাম্বারের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব কথা বলেন গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার যুগ্ম আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান।
জবি উপাচার্য বলেন, বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য অনুষদের জন্য তিনটি আলাদা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ফেল কিংবা পাশের কোনো বিষয় থাকবে না। পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর জানিয়ে দেয়া হবে। রেজাল্ট প্রকাশের পর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ওয়েবসাইটে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করবে। সেই নীতিমালার আলোকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
ড. মীজানুর রহমান বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সাথে বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়টি জড়িত নয়। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীকে তার প্রাপ্ত নম্বর জানিয়ে দেয়া হবে। পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে। বিভাগ পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম পূরণের সময় নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিষয় নির্ধারণ করবেন। এক্ষেত্রে ভর্তি নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে পারলে ওই শিক্ষার্থী নিজের পছন্দক্রমের বিষয় নিয়ে পড়তে পারবেন।
বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা করে কোনো ইউনিট রাখার প্রয়োজন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার পরে যদি বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা ইউনিট রাখতে চায় তাহলে সেটি তারা রাখতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা ইউনিট না রাখাই ভালো। আমরা শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নিবো। এই পরীক্ষায় সে কত নাম্বার পেলো সেটি তাকে জানিয়ে দেব। আমাদের কাজ এখানেই শেষ। এর পরের কাজটা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের। তারা কোন প্রক্রিয়ায় ভর্তি নেবে সেটি তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ার উদাহরণ টেনে মিজানুর রহমান আরও বলেন, আমাদের মানবিক বিভাগের পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের সিট সংখ্যা ১০০। এর মধ্যে ৮০টি আসন এইচএসসিতে মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকে। বাকি ২০টির মধ্যে ১০টি বিজ্ঞান বিভাগের আর ১০টি আসন বরাদ্দ থাকে বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। একজন কমার্সের শিক্ষার্থী যদি পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়তে চায় তাহলে ভর্তি ফরম পূরণের সময় তাকে পলিটিক্যাল সায়েন্স বিষয়টি পছন্দক্রমে রাখতে হবে। সে যদি পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগে ভর্তির শর্ত পূরণ করতে পারে তাহলে ওই বিষয় নিয়ে সে পড়তে পারবে।