এসএসসির এক কেন্দ্র

২০ মিনিট ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরা, অতঃপর...

২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ AM , আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৭ AM
জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় © টিডিসি ফটো

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০২৫ সালের (পুরোনো সিলেবাস) প্রশ্নপত্র বিতরণ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। প্রায় ২০ মিনিট ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার পর বিষয়টি সংশোধন করা হলেও পরীক্ষা শেষে সময় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

জানা যায়, কেন্দ্রের ১ ও ২ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরোনো সিলেবাস অনুযায়ী নৈর্ব্যক্তিক (MCQ) প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। প্রায় ২০ মিনিট পরীক্ষা চলার পর শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে যে প্রশ্নটি অনিয়মিত (পুরোনো সিলেবাস) শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষকদের নজরে আনলে কিছু সময় পর ভুল স্বীকার করে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করা হয়। নতুন ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও অতিরিক্ত সময় হিসেবে মাত্র ২০ মিনিট দেওয়া হয়।

এদিকে, পরীক্ষার শুরুতে শিক্ষার্থীরা যে ওএমআর শিট পূরণ করেছিল, সেটি মাঝপথে বাতিল করে নতুন ওএমআর শিট দেওয়া হয়। তবে নতুন করে ওএমআর পূরণের জন্য আলাদা সময় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে করে অনেকের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে এবং তারা সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারেনি বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন: গত বছরের প্রশ্নপত্র বিতরণ, দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষার্থী নওরিন ইসলাম নাবিয়া, সর্মিলা, সাইবা জাহান ছারা ও রাফিয়া বলেন, ‘প্রথমে আমরা প্রশ্ন দেখে অনেকটাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। পরে বুঝতে পারি এটি পুরোনো সিলেবাসের। প্রশ্ন পরিবর্তনের পর নতুন করে ওএমআর পূরণ করতেই অনেক সময় লেগে যায়। আমাদের প্রায় ৪০ মিনিট সময় নষ্ট হয়েছে, কিন্তু অতিরিক্ত সময় পেয়েছি মাত্র ২০ মিনিট। এতে আমাদের পরীক্ষায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।’

তারা অভিযোগ করেন, অনেক শিক্ষার্থী নৈর্ব্যক্তিক অংশ ঠিকভাবে পূরণ করতে পারেনি এবং কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন যে এতে তারা অকৃতকার্যও হতে পারেন।

পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। অভিভাবক বেলাল হোসেন বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের এমন ভুলের কারণে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কেন্দ্রের দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
‘ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে নতুন প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি, তবে পরবর্তীতে জানানো হবে।

কেন্দ্র সচিব সত্যরঞ্জন দাসও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, ভুলটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং পরে সংশোধন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রওজাতুন জান্নাত জানান, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, উক্ত কেন্দ্রে মোট ৪৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২৮ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

এবার নোবিপ্রবিতে শিক্ষকের অনশন, ভাঙলেন প্রশাসনের আশ্বাসে
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
বায়ুদূষণে আজ শীর্ষে দিল্লি-দ্বিতীয় লাহোর, ঢাকা কত?
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭৫ স্কুল সংস্কার করেছে ইরান
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের ড্রোন কীভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
২০ মিনিট ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরা, অতঃপর...
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবির নবীন শিক্ষার্থীদের বিশেষ মাইগ্রেশন শুরু, সুখবর পাচ্ছে…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬