ঢাকা শিক্ষা বোর্ড © টিডিসি সম্পাদিত
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চতর গণিতের প্রশ্নপত্রে বেশ কয়েকটি ভুল প্রশ্ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরীক্ষার হলে প্রশ্নগুলো সমাধানে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপে পড়তে হয়েছে। ভুলেভরা প্রশ্ন সমাধান করতে না পেরে পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির এই তথ্য জানান।
তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এ বছর ভুলের সংখ্যা খুবই কম। একটা প্রশ্নই ভুল হয়েছে। কেন হয়েছে, কে করেছে এসব দেখা হবে। এতে শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। আমরা সে ব্যবস্থা করব।’
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমাদের নিয়মিত কমিটি আছে। তারাই এ বিষয়ে রিপোর্ট দেবে।’
শিক্ষার্থীদের নম্বর নিয়ে কোনো সমস্যা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোথায় কতটুকু, কারা কতটুকু সুবিধা পাবে, সেসব বিষয় আমরা সিদ্ধান্ত নেব। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের পক্ষেই যাবে। শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এমন নিয়ম আগেও অনুসরণ করা হয়েছে।’
এ সময় ৩০টি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের প্রসঙ্গ তুললে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভুল প্রশ্ন বলতে আসলে দুই ধরনের সেট ছিল। নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্ন ছিল। এটি গত বছরের প্রশ্ন ছিল এমন কথা ঠিক নয়। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনিয়মিতদের প্রশ্ন এবং অনিয়মিতদের মধ্যে নিয়মিতদের প্রশ্ন উল্টোভাবে বিতরণ করা হয়েছিল। পরে ১৫ মিনিট বা আধা ঘণ্টার মধ্যে ভুল ধরা পড়লে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে সঠিক প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যে সময় নষ্ট হয়েছে, সেই অতিরিক্ত সময়ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি কেন্দ্রেই সমাধান করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা বোর্ডের ৫০১টি কেন্দ্রের মধ্যে হয়তো তিনটি কেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শতাংশের হিসেবে এটি খুবই কম। তারপরও আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দিয়েছি। আরও শাস্তির বিষয়ও রয়েছে। শিক্ষা অধিদপ্তর থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে, গত ১৭ মে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির উচ্চতর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ‘ক’ বিভাগের বীজগণিত অংশের ২নং-এর ‘খ’ নম্বর প্রশ্নটি ভুল। বীজগণিত অংশের ৪নং-এর ‘খ’ নম্বর প্রশ্নটি নিয়েও আপত্তি রয়েছে পরীক্ষার্থীদের। এছাড়া প্রশ্নপত্রের ‘খ’ বিভাগের জ্যামিতি ও ভেক্টর অংশে ৬নং-এর ‘গ’ নম্বর প্রশ্নটি ভুল দেওয়া হয়েছে। ভুল থাকা তিনটি প্রশ্নে মোট নম্বর ছিল ১২।
এদিকে পাঁচজন শিক্ষক ও ১০ জন শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চতর গণিত প্রশ্নপত্রের ২ নং প্রশ্নের ‘গ’ অংশে ২:১ এর স্থলে প্রকৃত অনুপাত হবে ১:৪; ৪ নং প্রশ্নের ‘গ’ অংশের প্রমাণে ৫ এর স্থলে ৩ হবে এবং ৬ নং প্রশ্নের ‘গ’ অংশে ‘চতুর্ভুজ’-এর পরিবর্তে ‘ট্রাপিজিয়াম’ হওয়া আবশ্যক ছিল, কারণ ট্রাপিজিয়াম ব্যতীত এই প্রশ্নের প্রমাণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।