বন্দি অবস্থায় জয়ের জন্ম, নাম রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু

২৭ জুলাই ২০২০, ০৯:১৩ AM
২৭ জুলাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে নানা-নানী

২৭ জুলাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে নানা-নানী © সংগৃহীত

সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম সামনে আসলেই ভেসে ওঠে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের বিভিন্ন স্মৃতিকথা। জয় নিজেও বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেছেন এই বিষয়ে। সম্প্রতি শিকাগোভিত্তিক রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স-এ তার একটি স্মৃতিচারণ প্রকাশিত হয়েছে।

২৭ জুলাই বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রীর আদরের দুলাল সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জন্ম নেন তিনি।

‘শেখ মুজিব: বাংলাদেশের জনক ও আমার নানা’ শীর্ষক নিবন্ধে তিনি লেখেন, শৈশবে আমি সকালের নাস্তাটা নানার সঙ্গেই করতাম। এ সময় নানা যা খেতেন সেটাই খাওয়া এবং তার মতো করেই খাওয়ার চেষ্টা করতাম। নানী কিন্তু আমার এই নানাপ্রীতি ও অন্ধ অনুকরণের জন্য মাঝেমধ্যেই বকা দিতেন। কিন্তু তাতে আমার উৎসাহ-উদ্দীপনা কোনোটাই কমেনি। এভাবেই চলছিল। কিন্তু একদিন নানা আমাকে তার জ্বলন্ত তামাকের পাইপে মজা করে টান দিতে দিয়েছিলেন। তারপর যা হওয়ার তাই হলো। বেদম কাশিতে আমার তখন প্রাণ যায় যায়! নানী তো রেগে আগুন। নানা সবকিছু দেখে তার সেই বিখ্যাত অট্টহাসিতে তখন ফেটে পড়েছেন। এমন বেশ কিছু মজার ঘটনা আমার স্মৃতিতে বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবকে চির স্মরণীয় করে রেখেছে।

যেভাবে হলো জয়ের নাম

২০১৭ সালের ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান জয়ের নামকরণের ইতিহাস। জয়ের নামকরণের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওকে পেয়ে আমরা বন্দীখানার মধ্যে সজীবতা পেয়েছিলাম। তাই মা (বেগম মুজিব) নাম রেখেছিলেন সজীব। আর বাবা (বঙ্গবন্ধু) রেখেছিলেন ‘জয়’। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের দিনই বঙ্গবন্ধু তার নাতির নাম ঠিক করে যান। তিনি বলেন, ‘সেদিন আব্বা বলেছিলেন, আমি থাকব কিনা জানি না, দেখতে পারব কিনা জানি না। তোর ছেলে হবে। সে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হবে। ছেলের নাম জয় রাখবি।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের সাথে সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে আটক করে পাকিস্তানি বাহিনী। শেখ হাসিনা তখন অন্তঃসত্ত্বা। এই অবস্থাতেও তাকে বন্দী করা হয় এবং সে সময়ের পিজি হাসপাতালে জন্ম হয় জয়ের।

৭৫ এ জয়ের জন্মদিন ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনে শেষ পারিবারিক উৎসব

বঙ্গবন্ধুর জীবনে শেষ পারিবারিক উৎসব ছিল ১৯৭৫ সালের ২৭ জুলাই। সেদিন দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে পারিবারিক সাদামাটা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও। তবে কে জানতো যে, জাতির পিতার জীবনে পারিবারিক কোনো আনন্দ উৎসবের এটিই শেষ দিন! সেদিনের পরিস্থিতিতে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি আর মাত্র ১৯ দিন পরেই ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার।

৭৫ এর ২৭ জুলাই, জয়ের জন্মদিনের মাত্র দুইদিন পর ৩০ জুলাই শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহানা, ছেলে জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে জার্মানির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।

সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। পরবর্তীতে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সেদিন শেখ হাসিনা তার অনেক অনিচ্ছাসত্বেও স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থলে চলে যেতে বাধ্য হন।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই পারিবারিকভাবে বঙ্গবন্ধুর জ্যৈষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের সঙ্গে সুলতানা আহমেদ খুকুর বিয়ে হয়। এই বিয়ের ৩ দিন পর ১৭ জুলাই এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ফুফাতো বোন সৈয়দ হোসেন সাহেবের মেয়ে রোজীর সঙ্গে শেখ জামালের বিয়ে হয়।

কিন্তু এক মাসের মধ্যেই সব কিছু কেমন স্তব্ধ হয়ে যায়। কুচক্রীদের নির্মম বুলেট গুড়িয়ে দেয় জাতির জনকের সাধের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন। চুরমার হয়ে যায় শেখ কামাল ও শেখ জামালের নতুন সংসার। নব পরিণীতা দুই নববধুর মেহেদীর রঙ মিশে যায় রক্তস্রোতে। চিরতরে হারিয়ে যায় শেখ রাসেল-এর কচি কন্ঠের আর্তনাদ। গভীর এক অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় সমগ্র জাতি।

নোবিপ্রবিতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক নেতাকে সদস্যসচিব করে জুলাই ড…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই রান-২০২৬ নিয়ে ডাকসুর নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, ক্ষো…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
খেলা চলাকালীন মাঠেই বজ্রাঘাতে ফুটবলারের মৃত্যু
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ঢাবিতে ৫০ শহীদ পরিবার নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘জুলাই নির্ভী…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পবিপ্রবি ছাত্রদ…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
বৃষ্টিতে বদলে গেল সমীকরণ, বাছাইপর্ব খেলতে হবে আয়ারল্যান্ডকে
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬