সংসদে নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ © হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক থেকে
২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ও ২০২৬। বছর দুই; কিন্তু বার্তা একই। আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকেই চান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ্। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান এই মুখের জন্মদিনে সংসদ ভবনে তোলা একটি ছবি নিজের ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করে এমন প্রত্যাশা রেখেছেন সতীর্থ হাসনাত।
পোস্টে এনসিপি নেতা লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, নাহিদ। তুমি আজ যে চেয়ারে বসে আছ, তার ঠিক বিপরীত দিকের এক ধাপ এগিয়ে থাকা আসনে তোমাকে বসে দেশের নেতৃত্ব দিতে না দেখা পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে—একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নে।’
এর আগেও ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল নাহিদ ইসলামের জন্মদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহ একই ধরনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন। তখন তিনি লিখেছিলেন, ‘শুভ জন্মদিন। বাংলাদেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী নাহিদ ইসলাম।’
নেটিজেনরা বলছেন, পোস্টের মাধ্যমে হাসনাত মূলত প্রধানমন্ত্রীর পদকেই ইঙ্গিত করেছেন। পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় এম জে মামুন নামে একজন লিখেছেন, ‘...জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী মহানায়কের জন্মদিন আজ। আপনাকে নিয়ে এখন সারা পৃথিবী আলোচনা করে, আপনাকে দেখে বিশ্বের জেনজিরা এখন সৎ, নির্ভীক রাজনীতি শেখার চেষ্টা করে। আপনি দেশের তারুণ্যের কাছে এখন প্রধান আইকন। শুভকামনা নেক্সট প্রধানমন্ত্রী।’

নাহর হোসাইন নামে একজন লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, নাহিদ। সময়ের এই যাত্রায় তুমি শুধু একজন মানুষ নও, তুমি এক আশা—যে আশা পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যায়। আমাদের বিশ্বাস, তুমি যেখানে আজ আছো, সেখান থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে তুমি এমন এক অবস্থানে পৌঁছাবে, যেখানে তোমার সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বাংলাদেশের জন্য। পথ কঠিন হবে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি যদি পরিষ্কার থাকে; তাহলে ইতিহাস নিজেই পথ তৈরি করে নেয়।’
দুই বছরের ব্যবধানে একই ব্যক্তিকে ঘিরে এমন ধারাবাহিক বার্তা নেটিজেনদের মধ্যে নানা বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। কেউ দেখছেন এটি রাজনৈতিক সম্ভাবনার প্রকাশ, আবার কেউ মনে করছেন এটি একটি প্রতীকী সমর্থন—ভবিষ্যতের নেতৃত্বের দিকে ইঙ্গিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা বলছেন, ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল নাহিদ ইসলামের জন্মদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহ যে প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন—‘বাংলাদেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী নাহিদ ইসলাম’; এক বছর পর ২০২৬ সালেও তার ভাষ্যে সেই একই ধারার ইঙ্গিত স্পষ্ট। সময়ের ব্যবধানে হাসনাতের পুরনো প্রত্যাশায় নতুন মাত্রা এসেছে। তারা বলছেন, নাহিদ ইসলাম তখন ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। আর এখন তিনি রাজধানীর ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইফ। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে তার অবস্থান আরও দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এটি কেবল একটি জন্মদিনের শুভেচ্ছা নয়; বরং সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্ত একটি রাজনৈতিক বার্তা, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আস্থা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা একসূত্রে গাঁথা হয়ে উঠেছে- এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ নাহিদ ইসলাম। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের লক্ষ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি উপদেষ্টার পদ ছাড়েন।
নাহিদ ইসলামের জন্ম ঢাকায় ১৯৯৮ সালে। ২০১৪ সালে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ২০১৬ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। ২০২২ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি বিবাহিত।