ভারতের সুপ্রিম কোর্ট © সংগৃহীত
রাজধানী দিল্লির রাস্তায় পথচারীদের নিরাপদে চলাচল ও রাস্তা পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করায় সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দিল্লি হাই কোর্টের বাইরে অবস্থানে বসার কথাও জানিয়েছেন আদালত। তবে আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’ জানিয়েছে, আদালত হালকা মেজাজে এ মন্তব্য করেছে। খবর আনন্দবাজার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির মথুরা রোডে হাই কোর্টের মোড় এবং ন্যাশনাল জুলজিক্যাল পার্কের কাছে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা নিয়ে মামলাটি চলছে। ওই এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিদিন বহু মানুষ এসব সড়ক পার হয়ে দিল্লি হাই কোর্টে যাতায়াত করেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছে। গত মাসে শুনানির সময় আদালতকে জানানো হয়, সরকার ওই এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল বসিয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে সেটি কাজ করে না বলেও অভিযোগ জানানো হয়।
এ পরিস্থিতিতে আদালত জানায়, শুধু ট্রাফিক সিগন্যাল বসালেই হবে না। হাই কোর্টের কাছের ওই সড়কে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে বাম্পার ও রাম্বল স্ট্রিপ বসানোর মতো কার্যকর ব্যবস্থাও নিতে হবে। রাম্বল স্ট্রিপ হলো রাস্তার ওপর তৈরি উঁচু-নিচু দাগ বা খাঁজ, যার ওপর দিয়ে গাড়ি চললে চালক ঝাঁকুনি অনুভব করেন এবং গতি কমাতে সতর্ক হন।
চলতি মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট আবারও নির্দেশ দেয়, হাই কোর্ট ও চিড়িয়াখানার সামনের সড়কে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
গত শুক্রবার মামলাটির শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বিক্রমজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, ওই ক্রসিংয়ে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্র একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
জবাবে আদালত বলেন, ‘কমিটি হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করতে হবে। না হলে মুখ্যসচিবকে ডেকে পাঠানো হবে।’
আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুনানির একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেন দুই বিচারপতি। আদালত বলেন, আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এবং সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের বাইরে অবস্থানে বসবেন বিচারপতিরা।