বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট © সংগৃহীত
জাল শিক্ষাসনদে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় ১৯ বছর চাকরি করার পর মোহাম্মদ গোলাম মাওলার চাকরির অবসান হয়েছে। বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরির শুরু থেকে বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ায় ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে। গতকাল রবিবার আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলার উদ্দেশে জারি করা ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদের মাধ্যমে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে অফিস সহকারী পদে চাকরি নেন। চাকরিরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলা (০৯/২০২১) পরিচালিত হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে আদেশে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার চাকরি শুরু থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে চাকরিকালীন কোনো বেতন-ভাতা পাওয়ার অধিকার তার থাকবে না।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিকালে গোলাম মাওলা বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা গ্রহণ করেছেন। এ কারণে ওই পুরো অর্থ তাকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে চালান তৈরি করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।