প্যাকেটজাত ও অন্যান্য জাঙ্ক ফুড © টিডিসি সম্পাদিত
চিপস বা প্যাকেটজাত স্ন্যাকস কেনা কিংবা খাওয়া অনেকের কাছেই সাধারণ বিষয়। কিন্তু ভারতের কিছু গ্রাম ও এলাকায় এ ধরনের খাবার বিক্রি বা কেনাবেচা নিষিদ্ধ। কোথাও নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে গুনতে হতে পারে হাজার হাজার টাকা জরিমানা।
মূলত শিশুদের জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্তি কমানো এবং প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গুজরাতের তিন গ্রামে জাঙ্ক ফুড নিষিদ্ধ
উত্তর গুজরাতের মেহসানা ও বনাসকন্ঠা জেলার তিনটি গ্রামে প্যাকেটজাত খাবার কেনাবেচা বন্ধ করা হয়েছে। ছোট আকারের ৫ বা ১০ টাকার চিপস কিংবা বিস্কুটের প্যাকেট কিনলেও জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
মেহসানার দাবোল গ্রাম
মেহসানা জেলার খেরালু তালুকের দাবোল গ্রামে গত ১৬ আগস্ট থেকে জাঙ্ক ফুডের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। গ্রামের প্রতিটি দোকানে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সরকারি অনুমতি নিয়ে গ্রামের প্রধানরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গ্রামে প্যাকেটজাত খাবার কিনতে বা বিক্রি করতে দেখা গেলে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
বনাসকন্ঠার বদরগড় ও রানাওয়াড়া
বনাসকন্ঠা জেলার বদরগড় ও রানাওয়াড়া গ্রামে শুধু প্যাকেটজাত স্ন্যাকস নয়, গুটখা ও অ্যালকোহলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে হাজার হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুই গ্রামের গ্রামপ্রধানরা সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেন। পরে স্থানীয় দোকানগুলোতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্তি কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে এসব দোকানে ঘরে তৈরি লাড্ডু, মুড়ি এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি শুকনো খাবার বিক্রি করা হবে।
কেরলের ভেল্লানাড় গ্রাম
কেরলের ভেল্লানাড় গ্রামে স্কুলগুলোর আশপাশে নরম পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বিক্রি নিষিদ্ধ। স্থানীয় পঞ্চায়েত গোটা গ্রামেই জাঙ্ক ফুড বিক্রি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেউ এসব খাবার বিক্রি করতে বা কিনতে দেখা গেলে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রক্রিয়াজাত খাবার বিক্রি করা দোকান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও রয়েছে।
নাগাল্যান্ডের গ্রিন ভিলেজ খোনোমা
নাগাল্যান্ডের খোনোমা দেশের প্রথম গ্রিন ভিলেজ হিসেবে পরিচিত। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাঙ্ক ফুড নিষিদ্ধ না হলেও প্লাস্টিকের ব্যবহার কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। এর প্রভাব পড়েছে প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রেও।
আরও দেখুন: রাজধানীর নৌবাহিনী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
গ্রামে প্লাস্টিকের প্যাকেট, থালা বা বাটি ব্যবহার করা হয় না। প্লাস্টিকের মোড়কজাত খাবারও বিক্রি করা হয় না। ফলে এখানকার বাসিন্দারাও প্যাকেটজাত জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে থাকেন।
সিকিমের লাচুং ও লাচেন
সিকিমের পাহাড়ি অঞ্চল লাচুং ও লাচেনেও প্লাস্টিক ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা বজায় রাখতে রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্লাস্টিক কমানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লাচুং ও লাচেনে প্লাস্টিকের বিভিন্ন পণ্য, প্লাস্টিকের মোড়কজাত খাবার এবং প্লাস্টিকের বোতলে নরম পানীয় নিষিদ্ধ। পর্যটননির্ভর সিকিমের পরিবেশ সুরক্ষায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফলে ভারতের এসব এলাকায় জাঙ্ক ফুড বা প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ কমানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও সরাসরি জরিমানার বিধান রয়েছে, আবার কোথাও পরিবেশ রক্ষার নীতির কারণে প্যাকেটজাত খাবার কার্যত বাজার থেকে দূরে রাখা হয়েছে।তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।