ল্যাবে রক্ত পরীক্ষা © সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ জুড়ে যৌনবাহিত সংক্রমণ বা এসটিআই (সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন)-এর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (ইসিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউরোপে প্রায় ১ লাখ গনোরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। একই সময়ে সিফিলিসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ৪৬ হাজারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা পুনরায় শুরু হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত অর্থেই সংক্রমণ ছড়ানোর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর ইকোনোমিস্টের
প্রতিবেদনের তথ্য মতে সংক্রমণের এই পুনর্জাগরণের নেপথ্যে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত একাধিক সঙ্গী খোঁজা এবং তরুণদের মধ্যে কনডম ব্যবহারে উদাসীনতাকে আংশিক কারণ মনে করা হলেও এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মিশ্র মতামত রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সিফিলিসের হার ১৫ শতাংশ বেড়েছে এবং বিষমকামী ও সমকামী উভয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেই এর বিস্তার ঘটছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে এসব রোগ বন্ধ্যত্বসহ মারাত্মক শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়ের থেকে সন্তানের শরীরে ছড়ানো জন্মগত সিফিলিসের ঘটনা ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বেড়ে ১৪০-এ পৌঁছেছে।
ভৌগোলিকভাবেও এই বৃদ্ধি পুরো ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গনোরিয়ার হারের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধিগুলোর কয়েকটি দেখা গেছে বুলগেরিয়া, ফ্রান্স ও ইতালিতে। বেলজিয়াম ও হাঙ্গেরিতে সিফিলিসের হার তীব্রভাবে বেড়েছে। লিথুয়ানিয়া ও মাল্টায় উভয় রোগের হারই হঠাৎ বেড়ে গেছে।
তবে কিছু দরিদ্র দেশ অত্যন্ত কম সংক্রমণের হার দেখাচ্ছে, যা আসলে বিভ্রান্তিকর হতে পারে। কারণ সেখানে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা দুর্বল। উদাহরণ হিসেবে রোমানিয়ার কথা বলা যায়। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ। অথচ ২০২৪ সালে সেখানে মাত্র ২৪টি ক্ল্যামিডিয়া সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংখ্যাটি এতটাই অস্বাভাবিকভাবে কম যে একই বছরে নথিভুক্ত সিফিলিসের রোগীর সংখ্যার তুলনায় তা হাস্যকরভাবে কম।
এখানে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়। দুর্বল তথ্যের কারণে সংক্রমণের প্রকৃত ঝুঁকি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পরীক্ষার সরঞ্জাম কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের যৌক্তিকতা দেখানোও কঠিন হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা কমে যায়।