চ্যাম্পিয়ন স্পেন © সংগৃহীত
বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বাইরের বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্ত করার ফিফার পরিকল্পনাকে ঘিরে উয়েফার সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রস্তাবটি থেকে ফিফা সরে না এলে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কঠোর পদক্ষেপও বিবেচনায় নিতে পারে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ৫৫ সদস্য দেশ।
এ লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহেই স্পেন, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, ফ্রান্সসহ উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে ফিফার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হবে। আলোচ্যসূচিতে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও থাকতে পারে।
সম্প্রতি ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের ঘোষণা দেয়। এই প্রতিষ্ঠান পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। এ উদ্যোগে সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারী যুক্ত করতে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান জে.পি. মরগানের সঙ্গে কাজ করছে ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় রয়েছে জশুয়া কুশনার প্রতিষ্ঠিত থ্রাইভ ইটারনাল। জশুয়ার ভাই জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ বিলিয়ন ডলার ইকুইটি মূল্যায়নের ভিত্তিতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এফএফইর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হবে। ফিফা এ-ও জানিয়েছে, ফুটবলের পরিচালনা, প্রতিযোগিতা আয়োজন, আন্তর্জাতিক ম্যাচসূচি নির্ধারণ এবং সব ধরনের নিয়ন্ত্রক ও ক্রীড়াবিষয়ক সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির হাতেই থাকবে।
এ নিয়ে ফিফার এক বিবৃতিতে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলের গণতন্ত্রীকরণের উদ্যোগ।’
ফিফার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় উয়েফা। সংস্থাটির দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। উয়েফা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রতিটি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক, সরকার এবং ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ভাবেন, তাদেরও একই গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখা উচিত।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ফুটবলের আত্মা এবং এর পরিচালনা ব্যবস্থা কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়—বিশেষ করে যখন কারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। আমাদের কেউই ফুটবলের মালিক নই। আর ফুটবল বিক্রি করার অধিকারও ফিফার নেই।’