মেসি ও রদ্রি © টিডিসি সম্পাদিত
২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ফুটবলের দুই সংস্থা। ফিফা যেখানে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রিকে গোল্ডেন বল দিয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সংস্থা (আইএফএফএইচএস) নিজেদের মূল্যায়নে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ফিফা স্পেনকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রদ্রিকে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি দেয়। তবে আইএফএফএইচএস ভিন্ন মূল্যায়ন করে নিজেদের প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে মেসিকে সবার ওপরে রেখেছে।
এই সিদ্ধান্ত অনেকের নজর কাড়ে। কারণ, ফুটবলের ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আইএফএফএইচএস দীর্ঘদিন ধরে ফিফার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। তারপরও সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে করা হয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মেসিকে সেরা নির্বাচনের ব্যাখ্যায় আইএফএফএইচএস নিজেদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘এই স্বীকৃতি নির্ধারণ করা হয় আইএফএফএইচএসের সামগ্রিক পারফরম্যান্স সূচকের ভিত্তিতে। এটি একটি কঠোর তথ্যনির্ভর পদ্ধতি, যেখানে ম্যাচের ওজনভিত্তিক রেটিং, গোল, অ্যাসিস্ট এবং পুরো বিশ্বকাপজুড়ে নকআউট পর্বে একজন খেলোয়াড়ের প্রভাব বিবেচনা করা হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি পারফরম্যান্স বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করার পর আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল একেবারেই স্পষ্ট।’
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি আটটি গোল করেন এবং চারটি অ্যাসিস্ট দেন। এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই আইএফএফএইচএস তাকে ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রির চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি ফিফার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বিপরীতে নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরেছে।
মেসির স্বীকৃতির পক্ষে আইএফএফএইচএস আরও বলেছে, ‘এই স্বীকৃতির পক্ষে থাকা পরিসংখ্যান যেকোনো মানদণ্ডেই অসাধারণ।’
তবে আইএফএফএইচএসের বিশ্লেষণে একটি অসঙ্গতিও দেখা গেছে। তারা মেসির সাতটি ম্যাচের পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেছে। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি মোট আটটি ম্যাচ খেলেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে না থাকায় সেই ম্যাচটি হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।
সবশেষে সংস্থাটি বলেছে, ‘১৯৯১ সাল থেকে আইএফএফএইচএস বিশ্ব ফুটবলের সেরাদের সম্মান জানিয়ে আসছে। এই স্বীকৃতিও সেই দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই প্রমাণ—ফুটবলের সেরা অর্জনগুলোকে নথিভুক্ত করা, মূল্যায়ন করা এবং উদযাপন করা।’