ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি © সংগৃহীত
স্পেনের উপকূলীয় শহর সিউতায় মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের জবাবে স্পেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্টবিহীন ‘শেনজেন’ সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইতালি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক ঘোষণায় আগামী এক মাসের জন্য স্পেনের ক্ষেত্রে এই সীমানা উন্মুক্ত রাখার সুবিধা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে দেশটি। খবর রয়টার্সের
তবে ইতালীয় সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ স্পেন বা ইইউ-ভুক্ত অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। এর পরিবর্তে স্পেন থেকে আকাশ বা পানিপথে আসা নন-ইইউ (non-EU) দেশের নাগরিকদের ওপর নির্দিষ্ট ও কঠোর তল্লাশি চালানো হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি লিখেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং আমাদের দেশের ওপর সম্ভাব্য যেকোনো প্রতিক্রিয়া রোধে এই অসাধারণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন পর্যটন প্রবাহে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রেখে কেবল যতটুকু সময় প্রয়োজন ততটুকু সময়ের জন্যই এটি বহাল রাখা হবে।’
স্পেনের সঙ্গে সরাসরি কোনো স্থলসীমান্ত না থাকা সত্ত্বেও ইতালি জানিয়েছে, নথিবিহীন অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা ফ্রান্স-ইতালি সীমান্তজুড়ে তল্লাশি জোরদার করতে প্যারিসের সঙ্গেও ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
অবশ্য স্পেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিউতায় হওয়া অভিবাসীদের সেই ঢল তারা অনেকটাই সামলে উঠেছে। সেখানে প্রবেশ করা ৫০ হাজারেরও বেশি অভিবাসীর বড় অংশই স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
ইতালির এই সিদ্ধান্তকে তাদের ঘরোয়া রাজনীতির চাল বলে মনে করছেন সমালোচকরা। মেলোনির ডানপন্থি সরকারের সমালোচকরা এই নতুন সীমান্ত তল্লাশিকে মূলত প্রতীকী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, সিউতায় আসা অভিবাসীরা যে ইতালিতে যেতে চান—এমন কোনো জোরালো লক্ষণ ছিল না।
২০২২ সালে অবৈধ অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা মেলোনি জোট সরকার বর্তমানে সাবেক সেনাপ্রধান রবার্তো ভানাকির নেতৃত্বাধীন নতুন সুদূর-ডানপন্থি দলের তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। ভানাকির অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য সেদেশের ভোটারদের একাংশকে আকৃষ্ট করেছে।
দেশটিতে অভিবাসন বিষয়টিকে নতুন করে সামনে রেখে সরকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিজেদের কঠোর অবস্থান জাহির করতে চাইছে। তবে কেন্দ্র-বামপন্থি বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদীদের তোয়াজ করা এবং স্পেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ এনেছেন।
উল্লেখ্য, শেনজেন অঞ্চলের আওতায় ইউরোপের ২৯টি দেশে কোনো ধরনের পাসপোর্ট ও সীমান্ত কড়াকড়ি ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। তবে সদস্য দেশগুলো নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সাময়িকভাবে পুনরায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জারি করার অধিকার রাখে।