সীমান্ত বাধা পেরিয়ে স্পেনে ঢুকছেন এসব অবৈধ অভিবাসীরা © সংগৃহীত
স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় মাত্র একদিনেই জল ও স্থলপথে মরক্কো থেকে রেকর্ড প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। এতে মাত্র ৮৩ হাজার বাসিন্দার এই ছোট্ট শহরটির জনসংখ্যা রাতারাতি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়ে চরম মানবিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্প্যানিশ সরকার সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সেউতা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। খবর ইউরোনিউজের
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই সীমান্ত পার হতে গিয়ে সমুদ্রপথে ডুবে ও হুড়োহুড়িতে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য বিবিসি বলছে মৃত্যুর সংখ্য ছাড়িয়েছে ২৪ এর অধিক। অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও স্প্যানিশ আদালতের সাম্প্রতিক আইনি বিধিনিষেধের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সেনাসদস্যদের সাহায্যে ইতিমধ্যে শত শত লোককে সীমান্তে ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
এই বিশাল সংখ্যক অভিবাসীর অনুপ্রবেশের ঘটনায় ইউরোপজুড়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ স্পেনের সঙ্গে তাদের আন্তর্জাতিক সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইতালি স্পেনের ‘শেনজেন ভিসা’ সুবিধা স্থগিতের দাবি জানালে মাদ্রিদ ইতালীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে রাজনৈতিক সুযোগ নেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তোলে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্যকে অনুচিত আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘একজন অংশীদার ও বন্ধুপ্রতীম দেশের কাছ থেকে আমরা ইউরোপীয় সংহতি প্রত্যাশা করি, কোনো দলীয় চাপাবাজি নয়।’ এ ঘটনার জেরে তিনি শুক্রবার মাদ্রিদে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূতকেও তলব করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান উরসুলা ফন ডার লেইন জানান, সেউতা থেকে আসা ছবিগুলো অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। অন্যদিকে, ফিনল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারি রানতানেন মেলোনির প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্পেন তাদের সীমান্ত রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডডরিক মেয়ার্জ মরক্কোকে অবৈধ অভিবাসীদের অবিলম্বে ফেরত নেওয়ার দাবি জানান।
বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত পুলিশ ও সেনাসদস্যরা হিমশিম খাচ্ছেন, অভিবাসীদের প্রথম ধাক্কায় সীমান্ত পাহারায় মাত্র ৫৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।