প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি © সংগৃহীত
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উত্তাল যুব আন্দোলনের মুখে অবশেষে মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সারাদেশে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় একটি ‘ত্রুটিহীন’ ও নির্ভরযোগ্য সরকারি পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোটের আইনপ্রণেতাদের সাথে এক বৈঠকে মোদি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো প্রকার ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। তরুণদের অধিকার রক্ষা ও ভবিষ্যত সুরক্ষায় সবাইকে একযোগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাসকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। গত সোমবার দিল্লিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ বিক্ষোভকারী ভারতের সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল বের করেন। বিতর্কিত এই ঘটনায় দেশের প্রায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং চরম হতাশায় একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগ, প্রশ্ন ফাঁসে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং অনশনরত বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করলে ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যাতে পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক তরুণ আহত ও হাসপাতালে ভর্তি হন। চাকরির অভাব ও বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষুব্ধ হয়ে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, অনিয়মের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তাঁর সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই চক্রের ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে আয়োজন করে নির্দিষ্ট সময়ে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের সহিংস হামলার কারণে আন্দোলনকারীরা আপাতত সংসদ অভিমুখে মিছিল না করার ঘোষণা দিলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।