নরেন্দ্র মোদি © সংগৃহীত
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট ) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রশ্নফাঁস ঠেকানো শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো দেশের একটি জাতীয় দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি নির্ভুল ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
রিজিজুর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এনডিএর শরিক দলগুলোকে সংসদে আইন প্রণয়নের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর প্রতিও গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ এবং তরুণ প্রজন্মের কল্যাণের জন্য কাজ করা সব সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব।'
মোদির এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন একদিন আগেই শত শত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে সংসদ অভিমুখে মিছিল করতে বাধা দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে।
ব্যঙ্গধর্মী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন করছেন। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি এক শুনানিতে কয়েকজন বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করার পর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংগঠনটি গঠিত হয়।
আন্দোলনকারীরা নিট প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
ভারতের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর একটি হলো ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট)। প্রতি বছর ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর গত মে মাসে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে গত মাসের শেষ দিকে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এদিকে নিট বিতর্কের মধ্যেই সিবিএসইর প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তাদের ভুল নম্বর দেওয়া হয়েছে বা অন্য শিক্ষার্থীর নামে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
কিরেন রিজিজু জানান, নিট প্রশ্নফাঁসের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য কোনো বিলম্ব না করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।'
এদিকে সোমবারের আন্দোলনের আগে সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুককে শনিবার জোর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে সিজেপির আন্দোলনের সমর্থনে চলা তার ২১ দিনের অনশন শেষ হয়।
তবে পরে হাসপাতাল থেকেই ওয়াংচুক ঘোষণা দেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তা দেখার পর তিনি আবারও অনশন শুরু করবেন।
উল্লেখ্য, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে দেওয়া প্রকাশ্য বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে সিজেপি জানিয়েছে, সোমবার সকালে সরকারের উদ্যোগে তাদের দুই নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা নিজেদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।
জে.পি. নাড্ডাও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।' তবে আলোচনার প্রস্তাব আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকেই এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন নিট প্রশ্নফাঁস এবং রামমন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে বিরোধী দলের বিক্ষোভে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষের কার্যক্রম একাধিকবার ব্যাহত হয়।