পাকিস্তানের জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
সিন্ধু নদীর পানিতে যে হাত দেবে তার হাত কেটে ফেলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উল্লেখ না করলেও কূটনৈতিক ভাষায় এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তার ভাষায়, ‘পাশের দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেবেন না।’
তার জবাবে মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের অধিকাংশ জনগণের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে একটি দেশ তাদের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তাই কেউ পাকিস্তানকে তার প্রাপ্য পানি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করলে তাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারত সিন্ধু নদীর পানিতে নিজেদের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করবে এবং ভারতের প্রাপ্য এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।
এর জবাবও দিয়েছেন পাকিস্তানের জলবায়ু মন্ত্রী মুসাদিক মালিক, ‘আমরা শুধু ঘোষণা করিনি, প্রয়োজনে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। কেউ যদি আমাদের পানির অংশে হাত দেয়, তাহলে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।’
ভারত ও পাকিস্তানের পানি চুক্তি নিয়ে মুসাদিক মালিক বলেন, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী উজানের দেশ ভাটির দেশের পানির প্রবাহ বন্ধ করে না। সেখানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তো একটি বৈধ চুক্তি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে ভারতের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদের নিয়ন্ত্রণ পায় পাকিস্তান। তবে গত বছর কাশ্মীরের পেহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহতের জেরে ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় দিল্লি। পরে পাকিস্তানকে সিন্ধুর এক ফোঁটাও পানি দেবে না বলে হুমকি দেন মোদি।