কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ © সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দ্বিতীয় দিনেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধসে পড়া ভবন ও বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার ১০ আগস্ট ভোরে দেশটির কফি উৎপাদনকারী কেন্দ্রস্থলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে কালি ও পেরেইরাসহ পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বহুতল ভবন ধসে পড়ে এবং অনেক ভবন ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে যায়। মানিজালেস শহরের একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের মিনারেও ফাটল দেখা দিয়েছে।
প্রায় ২২ লাখ মানুষের শহর কালিতে অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে ধসে পড়া ভবনের নিচে জীবিতদের সন্ধানে রাতভর খননকাজ চালান উদ্ধারকর্মীরা। অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় অবস্থান নেন।কালির একটি হাসপাতালের কয়েকটি তলা ধসে পড়ায় কিছু রোগী আটকা পড়েন। হাসপাতালের পরিচালক ইর্নে তোরেস কাস্ত্রো জানান, প্রায় ৬০০ জনকে ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তায় চিকিৎসা দিতে হয়েছে।
কালিতে উদ্ধারকাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেওয়া ৪৩ বছর বয়সী কারমেন ইয়াসমিন গার্সিয়া রয়টার্সকে জানান, তার দল একটি ধসে পড়া ভবন থেকে সাতজনকে উদ্ধার করেছে। তবে আরও চারজন ও একটি কুকুর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটু আগে আঁচড়ানোর শব্দ শোনা যাচ্ছিল কিন্তু এখন আমরা কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। আমাদের এখনও বিশ্বাস আছে যে কুকুরটি বেঁচে আছে এবং আমরা এই লোকগুলোকে বের করে আনতে পারব। আমাদের লাঠি ও কোদালসহ লোক দরকার, যত বেশি লোক সাহায্য করবে ততই ভালো।’
মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রিসারালদা রাজ্যের রাজধানী পেরেইরায় ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শহরের পুরো আবাসিক ব্লকগুলো কংক্রিট ও বেঁকে যাওয়া ইস্পাতের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় পেরেইরা বিমানবন্দরও ব্যাপকভাবে কেঁপে ওঠে এবং ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়ে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের গ্রামীণ প্রদেশ চোকোতে আরও ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
মাত্র কয়েকদিন আগে দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, শুধু কালিতেই ৩৫ জন নিহত এবং ১৮৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। লুটপাটের খবর পাওয়ার পর শহরটিতে এক হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন তিনি। পেরেইরার পাশাপাশি কালিতেও সোমবার রাতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনীয় যেকোনো উপায়ে সহযোগিতা করা। আমাদের জনগণকে রক্ষা করা বা সংহতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এখানে কোনো ভেদাভেদ বা আদর্শগত বিভাজন নেই।’
কলম্বিয়ার এই ভূমিকম্পকে ১৯৯৯ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ওই ভূমিকম্পে দেশটির একই কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। চলতি বছরের জুনে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভূমিকম্পের সঙ্গেও এবারের দুর্যোগের তুলনা করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় ৬ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।