জেডি ভ্যান্স ও তার স্ত্রী ঊষা ভ্যান্স © সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় পর এক বিরল ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হলো হোয়াইট হাউস। দায়িত্ব পালনরত (সিটিং) অবস্থায় প্রথম কোনো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সন্তান জন্ম নেওয়ার নজির গড়েছেন জেডি ভ্যান্স ও তার স্ত্রী ঊষা ভ্যান্স। রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড মেডিকেল সেন্টারে তাদের কোল আলো করে এসেছে চতুর্থ সন্তান।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই আনন্দসংবাদটি শেয়ার করেছেন। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক নীল ভ্যান্স।
বিবৃতিতে ভ্যান্স লিখেছেন, ‘ঊষা এবং নবজাতক দুজনেই সুস্থ ও খুশিতে আছে। আমাদের বাকি সন্তানেরাও তাদের ছোট ভাইকে পেয়ে ভীষণ আনন্দিত।’ চমৎকার সেবা ও নবজাতকের যত্নের জন্য তিনি ওয়াল্টার রিড মেডিকেল সেন্টারের সামরিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম কোনো দায়িত্বরত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ঘরে সন্তান জন্ম নেওয়ার ঘটনা ঘটল। এই দম্পতির ঘরে ইওয়ান (৯), বিবেক (৬) এবং মিরাবেল (৪) নামে আরও তিনটি সন্তান রয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্স (পূর্বনাম ঊষা চিলুকুরি) ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর এক মধ্যবিত্ত শহরতলিতে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা ছিলেন একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং মা মলিকুলার বায়োলজিস্ট, যারা ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিলেন। ২০১০ সালে ইয়েল ল স্কুলে পড়ার সময় জেডি ভ্যান্সের সাথে ঊষার প্রথম পরিচয় হয়, যখন তাঁরা শ্বেতাঙ্গ আমেরিকার সামাজিক অবক্ষয় বিষয়ক একটি আলোচনা চক্রে যোগ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার বৃদ্ধির পক্ষে বরাবরই অত্যন্ত সোচ্চার। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর একটি বইয়ে ভ্যান্স উল্লেখ করেছেন যে, ঊষা প্রথমে চতুর্থ সন্তান নেওয়ার বিষয়ে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন। তবে গত বছর রক্ষণশীল প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব চার্লি কার্ক নিহত হওয়ার পর তার সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
ভ্যান্স তার বইয়ে লেখেন, ‘আমরা যখন আমার বন্ধুর মরদেহ দাফন করে ফিরলাম, তার কিছুদিন পরই ঊষা আমাদের চতুর্থ সন্তানের (পুত্রসন্তান) গর্ভধারণ করে। আমাদের কাছ থেকে একটি জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার বদলে ঈশ্বর আমাদের আরেকটি নতুন জীবন উপহার দিয়েছেন।’