কেন গোটা পৃথিবীর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ঠিকাদারি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র?

১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫১ PM , আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৬ PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প © সংগৃহীত

মাদক,সন্ত্রাস নির্মূল কিংবা ন্যায়বিচার আরেকটু নান্দনিকভাবে বললে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিগত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বে বেশ ঘাম ঝরিয়েছে। আফগানিস্তান থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা, কিংবা হাল আমলের ইরান; পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছুটে গিয়ে সেসমস্ত দেশকেগুলোকে ‘উদ্ধার’ করেছে আমেরিকা। যেখানে নিজেদের সৈন্য থেকে শুরু করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন সেদেশের রাষ্ট্রপতিরা। তবে একটা প্রশ্ন বারবার উঠে আসে কেন পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।  

ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক আইন ব্যবহারের দ্বিচারিতা ও ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের রূপরেখার ওপর বিশ্লেষণ নির্ভর একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। সেখানে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন যখন কোনো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে যায়, তখন তা ওয়াশিংটনের চোখে হয়ে ওঠে সভ্যতার ভাষা। কিন্তু সেই একই আইন যখন খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্র দেশ ইসরায়েলের দিকে এগোয়, তখন তা হয়ে ওঠে সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন আঘাত।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ভেঙে দেওয়ার বা অকার্যকর করার যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু করেছেন, সেটির সূত্র ধরেই এই আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে মার্কিন সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা বলা হলেও, সমালোচকদের মতে এটি আসলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থাকে পঙ্গু করার চেষ্টা।

যুক্তরাষ্ট্র কেবল এই আদালতের সাথে সহযোগিতা করতেই অস্বীকার করছে না, বরং আইসিসিকে শাস্তি দিতে ভিসা বাতিল, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাংক লেনদেনে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো পথ বেছে নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে—হয় মার্কিন অনুগ্রহ বেছে নাও, না হয় আদালতের পাশে থাকার চড়া মূল্য দাও। কোনো আইনি সংস্কারের আলোচনা নয়, বরং শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে আইসিসিকে অচল করে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।

২০২৪ সালে ফিলিস্তিন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি যখন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে, তখন থেকেই ওয়াশিংটনের এই শত্রুতা চরমে পৌঁছায়। এর আগে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের তদন্তও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভের কারণ ছিল। এর স্পষ্ট বার্তা হলো—শত্রুদের অপরাধের তদন্ত করলে হাততালি মিলবে, কিন্তু ইসরায়েল বা মার্কিন স্বার্থে হাত দিলে জুটবে অর্থনৈতিক ও আইনি প্রতিশোধ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রোম সংবিধির স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় আইসিসির এক্তিয়ার নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন তোলে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা জানেন যে, আইসিসির ফিলিস্তিন তদন্তটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নিজস্ব এক্তিয়ারের ভিত্তিতেই পরিচালিত এবং ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্র এই আদালতকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের মূল আপত্তি কোনো টেকনিক্যাল বিষয়ে নয়; তাদের মূল আপত্তি হলো—আইন কেন তাদের অনুমতি ছাড়া নিজের গতিতে চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র যদি এই জবরদস্তিমূলক প্রচারণায় সফল হয়, তবে তা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও যুদ্ধাপরাধের বিচারকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। তখন যেকোনো অপরাধী রাষ্ট্রই আইসিসির তদন্ত এড়াতে বিচারকদের ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সাহস পাবে। সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বদলে আন্তর্জাতিক আইন তখন হয়ে উঠবে কেবলই শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর খেয়ালখুশির হাতিয়ার, আর তথাকথিত ‘নিয়ম-ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা’ পরিণত হবে স্রেফ একটি ‘আইনি দপ্তর সমৃদ্ধ এক নতুন সাম্রাজ্যে’।

বার্সেলোনার হাত ধরে ফের বিশ্বজয় স্পেনের, ১৬ বছর পর ফিরল ২০১…
  • ২০ জুলাই ২০২৬
ফাইনালে লালকার্ড দেখলেন দুই আর্জেন্টাইন
  • ২০ জুলাই ২০২৬
চার লাখ মানুষের ভরসার হাসপাতালে অকেজো এক্স-রে, বন্ধ আলট্রাস…
  • ২০ জুলাই ২০২৬
ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক বিশ্বজয়ী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের
  • ২০ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্পেনের রক্ষণভাগই সবচেয়ে শক্ত, পুরো আসরে…
  • ২০ জুলাই ২০২৬
দুপুরের মধ্যে দেশের ১৬ জেলায় ভারী বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে স…
  • ২০ জুলাই ২০২৬