প্রতীকী ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই নিজেকে সুস্থ মনে করেন। কিন্তু ৫ থেকে ১০ বছর পর শরীরে অ্যালঝেইমারের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আগেভাগেই এই রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরে গবেষণার ফলাফল লন্ডনে অনুষ্ঠিত অ্যালঝেইমারস অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়।
অ্যালঝেইমার হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের ক্ষয়জনিত রোগ, যা ধীরে ধীরে মানুষের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার স্বাভাবিক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বর্তমানে এ রোগের সম্পূর্ণ কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই। সাধারণত প্রবীণদের মধ্যেই এ রোগ বেশি দেখা যায়।
গবেষকদের মতে, অ্যালঝেইমারের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে পি-টাউ২১৭ নামের একটি রক্ত পরীক্ষার সম্ভাবনা আশাব্যঞ্জক। এ গবেষণায় ৬৮৪ জন সুস্থ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণা শুরুর সময় তাদের সবার পি-টাউ২১৭ পরীক্ষা করা হয়। এরপর প্রতি বছর তাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির মূল্যায়ন করা হয়।
গবেষণাটি ২০০৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এ সময়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৪৭৮ জনের স্মৃতি ও চিন্তাশক্তির দুর্বলতা দেখা দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে পি-টাউ২১৭-এর মাত্রা বেশি ছিল, তাদের পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ১০ বছরের মধ্যে এ ঝুঁকি প্রায় ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন : অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: বিএফএসএ
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সুস্থ মানুষের পি-টাউ২১৭ পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এলেই তিনি নিশ্চিতভাবে অ্যালঝেইমারে আক্রান্ত হবেন—এমনটি মনে করার সুযোগ নেই। বর্তমানে এ পরীক্ষা মূলত স্মৃতি বা চিন্তাশক্তি-সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন অথবা অন্যান্য কারণে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গবেষণাপত্রের লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস জেনারেল ব্রিগহাম ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক রেইসা স্প্যালিং বলেন, ‘এখনই এ পরীক্ষা নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সময় আসেনি। কারণ, আগেভাগে ঝুঁকি শনাক্ত করা গেলেও অ্যালঝেইমারের কার্যকর প্রতিকার এখনও সীমিত। তাই এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।’