নিউইয়র্কের আকাশে কমলা রংয়ের আস্তরন © সংগৃহীত
চলমান ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল বসতে যাচ্ছে জাদুর শহর নিউইয়র্কে। তবে তার আগেই বড় দুঃসংবাদ পেল এবারের আসরের অন্যতম আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেশী কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় অতিমাত্রায় অনিরাপদ হয়ে পড়েছে নিউইয়র্কের বাতাস। বিজ্ঞানীরা বলছেন শহরের আকাশে এবার শ্বাস নেওয়ার মানে হলো ১০ সিগারেটের সমান ধোঁয়ায় নিংশ্বাস নেওয়া। এমন পরিস্থিতিতে কানাডার ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওয়ার্ল্ড এয়ার ইনডেক্সের তথ্য বলছে,বর্তমানে নিউইয়র্কের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ শহরটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষের মানদণ্ড অনুযায়ী ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকা বায়ুর মানকে ভালো ধরা হয়। মেগা শহরটির বায়ুমানের এমন অবনমনের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কানাডা ও গ্রেট লেকস অঞ্চলে চলমান দাবানলের তথ্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে একটি নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তিনি কানাডার বন ও ঝোপঝাড় ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই এই দাবানল ও ধোঁয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, কানাডা থেকে আসা ধোঁয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বায়ুর মান বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছেছে, যা মার্কিন নাগরিকদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শ্বাস নিতে বাধ্য করছে। দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন হলেও তা অত্যন্ত ব্যাপক বলে দাবি করেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। একই সাথে এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাথে শিগগিরই বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন। পরিবেশগত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের দায় চাপিয়ে কোনো দেশের ওপর বাণিজ্য শুল্ক আরোপের এমন হুমকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ বড় ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।