স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের এসইএস (স্পেস এনভায়রনমেন্ট সিমুলেটর) © সংগৃহীত
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপকে রক্ষা করতে বিশেষ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে তিন বাহুবিশিষ্ট একটি মহাকাশযান সফলভাবে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, যা টেলিস্কোপটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এর কক্ষপথ আবারও উঁচুতে তুলবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যান একটি পরিবর্তিত বিমানের মাধ্যমে পেগাসাস রকেট উৎক্ষেপণ করে। রকেটটি ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিসের তৈরি লিংক মহাকাশযানকে মহাকাশে পৌঁছে দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় এক মাসের মধ্যে এটি নাসার সুইফট টেলিস্কোপের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
২০০৪ সালে উৎক্ষেপণ করা সুইফট টেলিস্কোপটি সাম্প্রতিক সৌরঝড়ের প্রভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত পৃথিবীর দিকে নিচে নেমে আসছে। এ কারণে টেলিস্কোপটিকে রক্ষা করতে নাসা প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
অভিযান সফল হলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সুইফট আবার মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের কাজে ফিরতে পারবে। বর্তমানে এর কক্ষপথ অক্ষুণ্ন রাখতে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সুইফট মূলত গামা রশ্মির বিস্ফোরণ, সুপারনোভাসহ মহাবিশ্বের শক্তিশালী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে। নাসার আশা, উদ্ধার অভিযান সফল হলে টেলিস্কোপটি আরও কয়েক বছর বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৬ টন ওজনের সুইফট পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় কক্ষপথে রয়েছে। ক্যাটালিস্ট স্পেসের পরিকল্পনা হলো, এটিকে আরও প্রায় ২৪০ কিলোমিটার উঁচু কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া। এজন্য লিংক মহাকাশযানের থ্রাস্টার ধীরে ধীরে টেলিস্কোপটির গতি বাড়াবে, যাতে কোনো ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি না থাকে।
আরও পড়ুন : নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে: আহমেদ আযম খান
নাসার অনুরোধে মাত্র নয় মাসে পুরো মিশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ক্যাটালিস্ট স্পেস। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, সময়মতো উদ্ধার না করা হলে চলতি বছরের অক্টোবরেই সুইফট দ্রুত নিচে নেমে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়ে যেতে পারত।
একই ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে নাসার বিখ্যাত হাবল স্পেস টেলিস্কোপও। সৌর অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বায়ুমণ্ডলীয় টান বেড়ে যাওয়ায় সেটির কক্ষপথও ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছে। ভবিষ্যতে হাবলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে।
উৎক্ষেপণের আগে ক্যাটালিস্ট স্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঘোনহি লি বলেন, ‘এটি একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশন। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ছিল, আমরা যদি মহাকাশযান উৎক্ষেপণই করতে না পারি, তাহলে সুইফট বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যেত। আমাদের দল সেই ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হয়েছে।’ তথ্যসূত্র : এপি।