ইনস্টাগ্রাম © সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামকে ইচ্ছাকৃতভাবে কিশোর-কিশোরীদের আসক্ত করে তোলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে মেটা প্ল্যাটফর্মস। সোমবার (২০ জুলাই) ন্যাশভিলে মামলার জুরি নির্বাচন শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
মামলাটি করেছে টেনেসি অঙ্গরাজ্য। তাদের অভিযোগ, মেটা জেনেশুনে এমনভাবে ইনস্টাগ্রাম ডিজাইন করেছে, যাতে কিশোর-কিশোরীরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের ব্যবহারের সম্ভাব্য মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে।
টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেল জোনাথন স্ক্রমেত্তির দাখিল করা মামলায় বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন অভ্যন্তরীণ গবেষণার তথ্য মেটা গোপন রেখেছে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের সতর্ক না করেই সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন ফিচার চালু রাখা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার কিছু কর্মী প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গকে কিশোরদের ওপর প্ল্যাটফর্মটির নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর উদ্যোগে অর্থায়ন করতে রাজি হননি এবং প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর কনটেন্টের পরিমাণ নিয়েও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।
রাজ্যটির দাবি, আদালত যেন মেটাকে আর্থিক জরিমানা করার পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামের এমন সব ফিচারে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেন, যেগুলো কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অটোপ্লে, রিলস ভিডিও, অতিরিক্ত নোটিফিকেশন এবং নির্দিষ্ট সময় পর কনটেন্ট অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার মতো ডিজাইন।
টেনেসির ভোক্তা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে। জুরি যদি সিদ্ধান্ত দেয় যে মেটা আইন লঙ্ঘন করেছে, তাহলে মামলাটি দ্বিতীয় ধাপে যাবে। সে পর্যায়ে বিচারক জরিমানার পরিমাণ এবং ইনস্টাগ্রামে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অভিভাবকদের জন্য নিয়ন্ত্রণ সুবিধা চালু রেখেছে।
মেটার দাবি, টেনেসির অভিযোগের বড় অংশই ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কনটেন্টের ওপর ভিত্তি করে। যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্টের ২৩০ ধারা অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের প্রকাশিত কনটেন্টের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দায়মুক্তি পায় বলেও তারা যুক্তি দিয়েছে।
আরও পড়ুন : বেসরকারি খাতের প্রথম কক্ষপথীয় রকেট বিক্রম-১ উৎক্ষেপণ
সাত সপ্তাহব্যাপী এই বিচার চলাকালেই ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট শিশুদের তথ্য সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৯টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলার বিচারও শুরু হবে।
এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি মামলায় জুরি রায় দেয় যে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা নিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে মেটা। সেই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মেটা, স্ন্যাপচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ ইনকর্পোরেটেড এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির বিরুদ্ধে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।