বেসরকারি খাতের প্রথম কক্ষপথীয় রকেট বিক্রম-১ উৎক্ষেপণ

২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ PM
 বিক্রম-১ এর উৎক্ষেপণ

বিক্রম-১ এর উৎক্ষেপণ © সংগৃহীত

মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। দেশটির প্রথম বেসরকারি খাতের কক্ষপথীয় রকেট বিক্রম-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস। এর মধ্য দিয়ে বেসরকারি উদ্যোগে কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনকারী বিশ্বের তৃতীয় দেশে পরিণত হয়েছে ভারত।

শনিবার (১৮ জুলাই) অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে তিন ধাপবিশিষ্ট ২২ মিটার দীর্ঘ রকেটটির উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর বিক্রম-১ সফলভাবে গ্রাহকদের পেলোড ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে (লো আর্থ  অরবিট) স্থাপন করে। রকেটটি সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহনে সক্ষম।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে রকেটটির প্রোপালশন, অ্যাভিওনিক্স, টেলিমেট্রি, গাইডেন্স, নেভিগেশন ও কন্ট্রোল সিস্টেম সফলভাবে পরীক্ষা ও যাচাই করা হয়েছে।

মিশনে পরীক্ষামূলক বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পাশাপাশি পরীক্ষাগারে তৈরি একটি হীরা এবং ভারতের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির স্মরণে নির্মিত ১৮ ক্যারেট সোনার একটি ক্ষুদ্র ভাস্কর্যও বহন করা হয়। এছাড়া রকেটটিতে একটি রোবোটিক বাহু রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মহাকাশের আবর্জনা অপসারণে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘এটি অগণিত তরুণকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নির্ভয়ে উদ্ভাবন করতে উৎসাহিত করবে।’

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ভারতের মহাকাশ খাতের উদারীকরণের পর গড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অন্যতম স্টার্টআপ। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মূল্যায়ন অর্জন করে দেশের প্রথম ‘ইউনিকর্ন’ মহাকাশ প্রযুক্তি কোম্পানিতে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন : আরএফএল গ্রুপে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ১৮ আগস্ট পর্যন্ত

সফল উৎক্ষেপণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) স্কাইরুট লিখেছে, ‘হ্যালো মহাকাশ, আমরা পৌঁছে গেছি!’

এর আগে ২০২২ সালে স্কাইরুট বিক্রম-এস নামে একটি সাব-অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণ করেছিল। সেই মিশন মহাকাশে পৌঁছালেও কোনো পেলোড কক্ষপথে স্থাপন করতে পারেনি। বিক্রম-১ সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতে নতুন যুগের সূচনা করল। নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ শুরু করার আগে আরও কয়েকটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ গবেষণায় ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়ে যাচ্ছে ভারত। ২০১৭ সালে একক রকেটে ১০৪টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল দেশটি। এরপর ২০২৩ সালে চন্দ্রযান-৩ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে সফল অবতরণ করে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করে। তথ্যসুত্র: আল জাজিরা।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: তদন্তে ৩০টির বেশি সুপারিশ, বা…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও চিনে তারা কারা: …
  • ২১ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ১১
  • ২০ জুলাই ২০২৬
আন্দোলন শরিক নেতাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
  • ২০ জুলাই ২০২৬
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্…
  • ২০ জুলাই ২০২৬