সাকিরুল ভুইঁয়া উদয়ের তৈরি শারিরীক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ হুইলচেয়ার © টিডিসি ছবি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী সাকিরুল ভুইঁয়া উদয়ের তৈরি শারিরীক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ হুইলচেয়ার নজর কেড়েছে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ। মুখ ও নাকের নড়াচড়ায় নিয়ন্ত্রণযোগ্য এ হুইলচেয়ারে বাধা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাওয়ার প্রযুক্তিও রয়েছে।
রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। এতে এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়।
মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন উদ্ভাবনের মধ্যে সাকিরুলের তৈরি হুইলচেয়ারটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ হুইলচেয়ারে চলাচলের ক্ষেত্রে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা কমিয়ে তাদের চলাচল সহজ করাই এ উদ্ভাবনের মূল উদ্দেশ্য।
হুইলচেয়ারটিতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করে চলাচল করতে পারবেন। ওয়েবক্যামের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর মুখ ও নাকের নড়াচড়া শনাক্ত করে হুইলচেয়ারটি পরিচালনা করা যায়। ব্যবহারকারী নাক যেদিকে নেবেন, হুইলচেয়ারও সেদিকে চলবে।
এ ছাড়া চলার পথে কোনো বাধা এলে আল্ট্রাসনিক সেন্সরের মাধ্যমে তা শনাক্ত করে হুইলচেয়ারটি থেমে যাবে। এতে ব্যবহারকারীর চলাচল তুলনামূলক নিরাপদ ও সহজ করার পাশাপাশি অন্যের ওপর নির্ভরশীলতাও কমানোর সুযোগ রয়েছে।
হুইলচেয়ারটিতে চলাচলের সুবিধার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে হার্ট রেট, পালস ও শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের সুবিধা রয়েছে।
সাকিরুল ভুইঁয়া উদয় বলেন, ‘যারা হাত দিয়ে হুইলচেয়ার চালাতে পারেন না, সামান্য মুভমেন্টের জন্যও অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়, মূলত তাদের জন্যই এই সমাধানটি তৈরি করেছি। ওয়েবক্যামের মাধ্যমে মুখ ও নাকের নড়াচড়া শনাক্ত করে হুইলচেয়ারটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নাক যেদিকে নেওয়া হবে, হুইলচেয়ারও সেদিকে যাবে। সামনে কোনো বাধা এলে আল্ট্রাসনিক সেন্সর সেটি শনাক্ত করে হুইলচেয়ার থামিয়ে দেবে। পাশাপাশি হার্ট রেট, পালস ও তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থাও রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সমস্যাকে সামনে রেখেই এ উদ্ভাবনের ভাবনা আসে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের চলাচল আরও সহজ ও স্বনির্ভর করা সম্ভব—এ চিন্তা থেকেই হুইলচেয়ারটি তৈরি করা হয়েছে।