ভারতের মধ্যপ্রদেশে

চৌদ্দ শতকের ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দিরের জায়গা বলে রায় দিল হাইকোর্ট

১৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ PM , আপডেট: ১৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ PM
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোজশালা মসজিদ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোজশালা মসজিদ © সংগৃহীত

ভারতের মধ্যপ্রদেশের চৌদ্দ শতকের ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদ’ স্থানটি হিন্দুদের জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর মন্দির বলে রায় দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। শুক্রবার (১৫ মে) হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল ও বিচারপতি অলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। 

রায়ে আদালত জানিয়েছেন, বিতর্কিত এই স্থানে এখন থেকে কেবল হিন্দুরাই পূজার্চনা করার অধিকার পাবেন এবং মুসলিমদের নামাজ পড়ার যে অধিকার ছিল, তা বাতিল করা হলো। এর পরিবর্তে জেলার মুসলিম সম্প্রদায় চাইলে মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জমির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবে এবং সরকারকে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ বিভাগের (এএসআই) সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট এই রায় প্রদান করেন। ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, ওই স্থানে নিরবচ্ছিন্নভাবে হিন্দুরা উপাসনা করে আসছে এবং ঐতিহাসিক সাহিত্য প্রমাণ করে এটি একটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ও নিশ্চিতভাবেই সরস্বতী মন্দির ছিল। 

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৫৮ সালের আইন অনুযায়ী এই স্থাপত্যের সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এএসআই-এর হাতেই থাকবে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজ্য সরকারকে ওই স্থাপত্যের চারপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাবরি মসজিদের মতো এই ভোজশালা নিয়েও ভারতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। হিন্দুদের দাবি, পারমার রাজবংশের রাজা ভোজের (১০১০–১০৫৫) আমলে এখানে সরস্বতী মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষালয় স্থাপিত হয়েছিল। অন্যদিকে, মুসলিমদের দাবি— এটি ‘কামাল মাওলা দরগা ও মসজিদ’, যা চতুর্দশ শতকে সুফি সাধক কামালউদ্দিনের মৃত্যুর পর গড়ে উঠেছিল। এতদিন এএসআই-এর ২০০৩ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সেখানে প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা পূজা এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমরা নামাজ পড়ার সুযোগ পেতেন। হাইকোর্টের এই নতুন রায়ের ফলে মুসলিমদের নামাজ পড়ার সেই অধিকার বন্ধ হয়ে গেল।

এদিকে, মামলাকারীদের দাবি অনুযায়ী ভোজশালার দেবী সরস্বতীর যে প্রাচীন মূর্তিটি বর্তমানে লন্ডনের জাদুঘরে রয়েছে, তা ফিরিয়ে এনে এখানে স্থাপন করার যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

অযোধ্যা আন্দোলনের পর কাশী ও মথুরার মতো ভোজশালার চরিত্র নির্ধারণের যে দাবি কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা তুলেছিল, এই রায় তাকেই স্বীকৃতি দিল। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ মুসলিম পক্ষ এখন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জানালার গ্রিল কেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যবান মালামাল চুরি
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদনের ছক বা ফরম দেখুন এখানে
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
মাদকাসক্ত ছেলের হামলায় মা ও ভাই গুরুতর আহত
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
টিএসসি নির্মাণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ ১৩ দাবি সেন্ট্রাল ইউন…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
ছাদ থেকে শুরু, এরপর সিঁড়ি হয়ে সর্বশেষ বেডরুম— এর মাঝেই ৪ হত…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
অবৈধ স্লিপার বাসের বৈধতা চেয়ে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক বন্ধ করে …
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬