আদালতে জামিল-নাহিদার বন্ধুরা, চাইলেন ন্যায়বিচার

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮ AM , আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩০ AM
 আদালতে অভিযুক্ত হিশাম ও জামিলের বন্ধুরা

আদালতে অভিযুক্ত হিশাম ও জামিলের বন্ধুরা © টিডিসি ফটো

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হিশাম সালেহ আবুঘরবেহর জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার অঙ্গরাজ্যটির হিলসবরো কাউন্টির একটি আদালতের বিচারক লোগান মারফি জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে বন্দী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আসামি আবুঘরবেহকে সাক্ষী বা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জামিলের মরদেহ পুলিশ মঙ্গলবার টাম্পা ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস বলেছে, জামিলের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও দু-এক দিন সময় লাগতে পারে।

২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি কালো রঙের আবর্জনা ফেলার ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পায় ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তিনি খুন হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। নাহিদার মরদেহের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেখানে জামিলের মরদেহ পাওয়া গেছে, সেখান থেকে কিছুটা দূরে একটি জলাশয়ে ২৬ এপ্রিল একটি মরদেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। সেটি নাহিদার কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

আদালতে জামিল-নাহিদার বন্ধুরা

ফ্লোরিডার স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘টাম্পা বে ২৮’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার শুনানি চলাকালে আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রতিনিধি জাডা উইলিয়ামস। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) টাম্পা ক্যাম্পাসেও গিয়েছিলেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন জামিল ও নাহিদা। জাডা উইলিয়ামস জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুই সহপাঠীকে এভাবে হারানোর দুঃখে শোকাচ্ছন্ন। ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা নিয়েও তাঁরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ভুগছেন।

টাম্পা বে ২৮ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশিদের একটি দল আদালতে উপস্থিত ছিল। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই জামিল ও নাহিদার সহপাঠী ও বন্ধু।

তাঁদের মধ্যে আবীর আল হাসিব ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বন্ধনের বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিরা এখানে একটি পরিবারের মতো বসবাস করি। আমরা একসঙ্গে খাবার খাই, একসঙ্গে বেড়াতে যাই।’ তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মূল লক্ষ্য ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো, এই ব্যক্তিকে ন্যায়বিচারের আওতায় আনা। এ মুহূর্তে এটিই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না উল্লেখ করে রিফাতুল ইসলাম বলেন, ‘যে জায়গাকে আমরা সবচেয়ে নিরাপদ স্থান বলে মনে করি—আমাদের বাড়ি, আমাদের ঘর, আমাদের রান্নাঘর—সেখানেই তাঁদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এটা আমাদের খুবই হতবাক করেছে। আমি বুঝতে পারছি না কী বলব, এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

সালমান সাদিক তাঁর বন্ধুদের (জামিল ও নাহিদা) সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে চান।

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ আদালতে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু এবং সহপাঠীদের উপস্থিতির বিষয়টি লক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি, তাঁদের এত বন্ধু আসবেন। তবে আমরা ভেবেছিলাম, তাঁদের পরিবারের একজন সদস্য উপস্থিতি থাকবেন।’

জামিল–নাহিদার ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে তাঁদের বন্ধুদের এই সমর্থন দেখে স্টেট অ্যাটর্নি খুবই খুশি হন। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য শিক্ষার্থী ও বন্ধু ওই দুজনকে আপন করে নিচ্ছেন, যাঁদের তাঁরা হারিয়েছেন এবং তাঁদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাইছেন। এটা সত্যিই দারুণ।’

সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে

আবুঘরবেহ মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। প্রসিকিউটররা আশা করছেন, আগামী ৭ মে তাঁরা মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন। দোষী সাব্যস্ত হলে আবুঘরবেহর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, অস্ত্র রাখার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে আবুঘরবেহর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাইবেন কি না, প্রসিকিউটররা তা জানাননি।

এ বিষয়ে স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রথমে আমাদের গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে, এরপর আমরা ঠিক করব, আমরা মৃত্যুদণ্ড চাইব কি না।’

আর পাবলিক ডিফেন্ডার জেনিফার স্প্র্যাডলি আগের দিন সোমবারই বলে দিয়েছিলেন, তাঁর দপ্তর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।

জামিলের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে

জামিলের মরদেহ মঙ্গলবার টাম্পা ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সঙ্গে সমন্বয় করে মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মরদেহ হস্তান্তরের আগে মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জামিলের পরিবারের সম্মতি নিয়েছে। মরদেহের পরবর্তী সব প্রক্রিয়া মুসলিম রীতিতে সম্পন্ন হবে।

জামিলের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও দু–এক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

১৬ এপ্রিল জামিল (২৭) ও নাহিদা (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক আবুঘরবেহকে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারীদের বর্ণনায় হত্যাকাণ্ড

জামিল ও নাহিদা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রোমহর্ষ বর্ণনা তুলে ধরেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ। সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হত্যার অভিযোগ থাকায় আবুঘরবেহকে কারাবন্দী রাখতে আদালতের কাছে গত সপ্তাহে আবেদন করেছিলেন আইনজীবীরা। ওই আবেদনে তদন্তকারীদের ধারণা অনুযায়ী কীভাবে জামিল ও নাহিদাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ২৫ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি আদালতে আবেদনটি করেন সরকারি আইনজীবীরা। এতে বলা হয়, ১৬ এপ্রিলও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জামিল ও নাহিদার। দুই শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যেও অল্প সময়ের জন্য ফোনালাপ করেছিলেন। এরপর তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সিসিটিভি ফুটেজে ১৬ এপ্রিল দিনের মাঝামাঝি সময়ে নাহিদাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা যায়। সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর চশমা নেওয়ার জন্য এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। তবে তিনি যাননি। এমনকি ওই বন্ধু তাঁকে ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি। জামিলের মুঠোফোনের অবস্থান অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৩ মিনিটের দিকে ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। এর আগে তাঁর আবাসস্থল ও ক্যাম্পাসের কাছাকাছি তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান দেখা যায়।

আইনজীবীরা বলেছেন, জামিলের মুঠোফোনের অবস্থান ক্লিয়ারওয়াটারে দেখানোর ১০ মিনিটের মধ্যে ওই এলাকায় যেতে দেখা যায় আবুঘরবেহর গাড়িটিকে।

জামিল ও আবুঘরবেহর অন্য একজন রুমমেট দেখতে পান, আবুঘরবেহ একটি ট্রলি ব্যবহার করে তাঁর ঘর থেকে কিছু কার্ডবোর্ডের বাক্স ময়লা ফেলার স্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার হলফনামায় বলা হয়েছে, আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়িতে তল্লাশি করা হয়?’ ১৭ এপ্রিল রাত ১টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে দুবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে গিয়েছিলেন তিনি।

এরই মধ্যে জামিল ও নাহিদার নিখোঁজের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃষ্টির কাজের জায়গায় তল্লাশি করে পুলিশ। সেখান থেকে তাঁর খাবারের বাক্স, একটি ম্যাকবুক, আইপ্যাডসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।

আবুঘরবেহর মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে সবশেষ ১৮ এপ্রিল আবুঘরবেহর দেখা হয়েছিল। মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের অফিস নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর অবস্থাকে ‘বিপন্ন’ উল্লেখ করে। তদন্তকারীরা একটি ময়লা ফেলার স্থানে তল্লাশি চালান। সেখানে তাঁরা রক্তমাখা একটি কালো রঙের ফ্লোর ম্যাট, নাহিদার মুঠোফোনের কভার এবং জামিলের মানিব্যাগ, চশমা ও রক্তমাখা পোশাক খুঁজে পান।

হলফনামায় বলা হয়েছে, জামিল ও নাহিদাকে শেষ কবে দেখেছিলেন, সে বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দেন আবুঘরবেহ।

বড় চমক দেখাল ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দুইদিনে ফলোয়ার ছাড়…
  • ২১ মে ২০২৬
পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির, ভোক…
  • ২১ মে ২০২৬
দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো রামিসা
  • ২১ মে ২০২৬
নির্মাণ শ্রমিক কর্তৃক নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা, নোবিপ্রবিতে …
  • ২১ মে ২০২৬
পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে বন্ধ ইজারা কার…
  • ২১ মে ২০২৬
আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের বৈশ্বিক ঝুঁকি কতখানি?
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081