প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো ক্লাবে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান বক্তব্য রাখছেন © সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনী সচিব জন সি. ফেলান তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) স্থানীয় সময়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ফেলানের পদত্যাগ ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে। তবে তার এই আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
পারনেল আরও জানান, নৌবাহিনীর আন্ডার সেক্রেটারি হাং কাও ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ফেলানের এই পদত্যাগ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক প্রস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সরে দাঁড়ানোর ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে এবং হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনী অবরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পারনেল তার বার্তায় বলেন, ‘যুদ্ধ সচিব ও উপ-যুদ্ধ সচিবের পক্ষ থেকে আমরা সচিব ফেলানের যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও বিভাগের প্রতি অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ। আমরা তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানাই।’
উল্লেখ্য, নৌবাহিনী সচিব একটি বেসামরিক পদ, যিনি নৌবাহিনী বিভাগের নীতি নির্ধারণ, প্রশাসন, বাজেট এবং সামগ্রিক প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকেন।
ফেলানের পদত্যাগের কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে পদ ছাড়তে বলেন। একই সময়ে আরও দুই সেনা কর্মকর্তা—জেনারেল ডেভিড হডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারিত হন। পেন্টাগনে নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে অপসারণ করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ফেলানের পদত্যাগের ঠিক একদিন আগেই তিনি ওয়াশিংটনের বাইরে অনুষ্ঠিত নৌবাহিনী লীগের বার্ষিক ‘সি এয়ার স্পেস’ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন। এরপরই তার আকস্মিক পদত্যাগ নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।