তাপপ্রবাহের পর ৫ জুন থেকে দেশে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে © এআই সৃষ্ট ছবি
কয়েকদিন ধরে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে চলছে মৃদু তাপপ্রবাহ। এতে সারাদেশে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা এখনো অতীতের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ না করলেও গরমে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি আরও দুই-তিনদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদরা। এরপরই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির ঘরে থাকলেও বাস্তবে মানুষের শরীরে অনুভূত হচ্ছে ৪২ ডিগ্রিরও বেশি তাপ। বাইরে বের হলেই যেন আগুনের উত্তাপ গায়ে এসে লাগছে। ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর, কিন্তু মিলছে না স্বস্তি। ছায়া, বাতাস কিংবা সামান্য ঠান্ডা অনুভূতিও যেন এখন দুর্লভ হয়ে উঠেছে রাজধানীবাসীর জন্য।
বুধবার (৩ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে দেশের কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও দুই-এক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে অল্পস্বল্প বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে সেগুলো মূলত হালকা ও ক্ষণস্থায়ী বৃষ্টি হবে। দুই-এক দিনের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি বৃষ্টি হতে পারে। তখন তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে।’ তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা কম। তবে ৫ জুনের পর থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা যায়।’
রাজধানীর আবহাওয়া প্রসঙ্গে ড. ওমর ফারুক বলেন, ‘ঢাকাতেও ৫ জুন পর্যন্ত তাপমাত্রা কমবেশি বর্তমান অবস্থার কাছাকাছিই থাকতে পারে। তবে ৫ জুনের পর থেকে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’
আরও পড়ুন: তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, কমবে কবে— জানালেন আবহাওয়াবিদ
আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত সারা দেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু–এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।