ভারতের রাষ্ট্রদূত হয়ে বাংলাদেশে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা, কে এই দীনেশ?

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ AM
দীনেশ ত্রিবেদী

দীনেশ ত্রিবেদী © সংগৃহীত

ভারতের দূত হয়ে বাংলাদেশে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের দীনেশ ত্রিবেদী। সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত। শেষ মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন না-ঘটলে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটপর্ব মিটলেই দীনেশকে রাষ্ট্রদূত করে ঢাকায় পাঠানোর সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে অনেক চিন্তাভাবনার পরই দীনেশকে এ পদের জন্য বাছাই করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মা। তাঁকে বেলজিয়ামে পাঠানো হতে পারে। তার জায়গায় দীনেশকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (হাই কমিশনার) করা হবে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার অপেক্ষা। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের অধ্যাপক ইউনূস পরিচালিত অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা ‘অবনতি’ হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক মসৃণ করার উদ্যোগ চলছে দু’তরফেই। এ কাজেই দীনেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন বলে মনে করছে ভারত সরকার।

দীনেশ ঝরঝরে বাংলা বলেন। দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ। শুধু রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল সম্পর্কিত জানা-বোঝাই নয়, দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত। দক্ষ সেতারবাদক দীনেশের হাতে শুধু ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কই নয়, দুই বাংলার সম্পর্কও নতুন সুরে বাজতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

গুজরাতি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর কনিষ্ঠপুত্র দীনেশ। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক হন। তার পর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ। আশির দশকে কংগ্রেসে যোগ দেন দীনেশ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সাংসদ ছিলেন। 

আরও পড়ুন: অভিভাবকদের গচ্ছা প্রায় ১২ কোটি টাকা, তদন্তের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল গঠন করেন, সে দলে যোগ দেন দীনেশ এবং দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০২-০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। আসনটিতে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। 

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর মমতা রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লে, সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। কিন্তু রেলের ভাড়া বাড়ানোয় তার উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মমতা। তাকে রেলমন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তিনি আবার তৃণমূলের প্রার্থী হন। কিন্তু সে বার বিজেপির অর্জুন সিংহের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। 

কিছুদিন পর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ তৈরি হয় দীনেশের। তাকে নিয়ে জল্পনা জোরালো হতে থাকে। তাহলে কি এ বার বিজেপিতে যাচ্ছেন দীনেশ? সে জল্পনাকে সত্যি করে ২০২১ সালের ৬ মার্চ পদ্মশিবিরে যোগ দেন তিনি। রাজ্যসভার এমপির পদ থেকে ইস্তফা দেন। 

এখন বিজেপিতেই রয়েছেন দীনেশ। সবকিছু ঠিকঠাক চললে, কিছু দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে তিনি এক বাংলা থেকে আর এক বাংলায় রওনা হবেন। শেষ পর্যন্ত রওনা যদি হন, মোদীর তরফ থেকে একটি অন্তর্নিহিত বার্তাও চলে আসবে পশ্চিম বাংলায়। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গেলে যোগ্যতা মতো ‘পুরস্কার’ মিলবে। আনুগত্যের পুরস্কার মমতাও দেন। 

সেই মমতারই ঘর ভাঙিয়ে আনা দীনেশকে এ ক্ষেত্রে ‘শুরুর শুরু’ বলে মনে হওয়াটা অবাস্তব নয় একেবারেই। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি আশাপ্রদ ফল করলে, এমন পুরস্কারের তালিকায় বঙ্গব্যক্তিত্বেরা বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছেন, ধরে নেওয়াই যায়।

ভোরে বিএনপি নেতাকে গুলি, হাসপাতালে ভর্তি
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
ডিটক্স মেথডে ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি দূর করবেন যেভাবে
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
পুলিশের এএসআই পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন শুরু ২৮ এপ্রিল
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কেবলই যুদ্ধক্ষেত্রের ধারাবাহিকত…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
‘অন্য স্কুলের সামনে ঘোরাঘুরি ও কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকলে বহি…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
যশোর বোর্ডে এসএসসিতে অতিরিক্ত সময় পাবে ১৪৪ পরীক্ষার্থী
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬