পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল © সংগৃহীত
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার (প্রত্যর্পণ) বিষয়ে ঢাকা থেকে পাঠানো অনুরোধটি বর্তমানে ভারত সরকার পরীক্ষা করে দেখছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানান।
নিয়মিত সংবাদ বিফ্রিংয়ে বাংলাদেশের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুরোধটি বর্তমানে চলমান বিচার বিভাগীয় এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এই ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে।’
গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করেন। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে তার বৈঠক হয়।
ওই বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ‘ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে মতবিনিময় করেছে এবং অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য দ্রুতই কর্মকর্তাদের মধ্যে ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এর আগে ১০ এপ্রিল জানিয়েছিলেন যে, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাওয়ার দাবিটি তাঁরা ভারতের কাছে পুনরায় উত্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ভারত সরকার বর্তমানে সেই প্রত্যর্পণ অনুরোধটির আইনি ও কৌশলগত দিকগুলো পর্যালোচনা করছে।