তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান © সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, লিবিয়া এবং কারাবাখে যেভাবে তুর্কি বাহিনী প্রবেশ করেছিল, প্রয়োজন হলে একইভাবে তারা ইসরায়েলেও প্রবেশ করতে পারে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘রক্ত ও ঘৃণায় অন্ধ’ বলে অভিযুক্ত করে এই মন্তব্য করেন তিনি। খবর টেলিগ্রাফের
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এরদোয়ান হুমকি দেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতা না করলে তুরস্ক অনেক আগেই ‘ইসরায়েলকে তার উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে দিত।’
তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। এরদোয়ানকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তুর্কি প্রেসিডেন্ট কুর্দিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছেন এবং নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন সেমেটিক-বিদ্বেষের আশ্রয় নিচ্ছেন। তুরস্কের আকাশসীমায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের ঘটনায় কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে না পেরে এরদোয়ান এখন বাগাড়ম্বর করছেন।’
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মোট ৪ হাজার ৫৯৬ বছরের কারাদণ্ড চেয়ে মামলা করেছেন তুরস্কের প্রসিকিউটররা। গাজায় চলমান যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে ২০২৪ সালের মে মাস থেকেই ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে আঙ্কারা।
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের এই বৈরিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর আহমেদ আল-শারা’র নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে আঙ্কারার সমর্থন দেওয়া ইসরায়েলের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিশালী সেনাবাহিনী তুরস্কের থাকলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির জোরে ইসরায়েলও এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে মরিয়া।