ড. মো. আকতারুজ্জামান
ড. মো. আকতারুজ্জামান © টিডিসি সম্পাদিত
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তার এই বক্তব্যে বিতর্কের মূল অংশ ছিল দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণার তুলনা। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারও করে নিলেও বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইনে পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে।
স্কুল, কারিগরি ও ডিজিটাল শিক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামানের মতে, পাবলিক-প্রাইভেট ও ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়— কে বড়, কে ছোট দ্বন্দ্বে যাওয়া উচিত হবে না।
এক সময় দেশের পাবলিক-প্রাইভেট ও ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিয়োজিত এই অধ্যাপক বলেন, দেশের পাবলিক, প্রাইভেট ও ইন্টারন্যাশনাল সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় যুগ চাকরি করেছি। কে বড়, কে ছোট—এই দ্বন্দ্বে যাওয়া আমাদের উচিত হবে না।
‘‘মনে রাখতে হবে সবখানে আমাদের সন্তানরাই লেখাপড়া করছে একটি ভাল ভবিষ্যতের জন্যে। তাই সরকার ও আমাদের সবার উচিত একটি সুস্থ ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা - একে অপরের বিরুদ্ধে অনলাইন ও অফলাইনে যুদ্ধে জড়ানো নয়।’’
ড. মো. আকতারুজ্জামান বলেন, একটি দায়িত্বশীল জায়গা থেকে মাননীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ভাল ও প্রায়োগিক গবেষণা করেন, বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো গ্রাজুয়েটরা কর্মরত আছেন। এছাড়া ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অনন্য।
‘‘যা হোক, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে উনি- কোচিং সেন্টার, কানাকড়ি ও কপি-পেস্ট গবেষণা, সিএসই/বিবিএ মাগনা-ফ্রি ডিগ্রি- এই কথাগুলো না বললেও পারতেন। ভাল কথা যে উনি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে অনলাইন ও অফলাইনে পাবলিক - প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় দ্বন্দ্ব এখনো চলমান।’’
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বসবাসরত এই অধ্যাপক আরও বলেন, রেমিট্যান্স নির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমাদের সামনের দিনগুলো অনেক চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আগামী ১০ বছর পরে কোন ডিগ্রি থাকবে আর কোন ডিগ্রি ডিমান্ডিং হবে, মূল্যায়ন পদ্ধতি কেমন হবে, প্লেজারিজম বলতে কি বুঝবো, গতানুগতিক অপ্রায়োগিক রিসার্চ আদৌও থাকবে কিনা তা সত্যিই বলা কঠিন হবে!
‘‘এমতাবস্থায় যদি সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বিত জেনটেক শিক্ষা মডেলের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়, তাহলে আমরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির সংযোগ ঘটিয়ে অচিরেই একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, স্বনির্ভর, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবো।’’