ন্যাটো © সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ন্যাটো মিত্রদের দীর্ঘদিনের টানাপড়েন এখন এক নজিরবিহীন সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আহ্বানে যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার ইউরোপীয় সিদ্ধান্ত এই ফাটলকে আরও গভীর করেছে। ট্রাম্প এই অনীহাকে জোটের গায়ে একটি ‘স্থায়ী কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ এই পরিস্থিতিকে ‘ট্রান্স-আটলান্টিক স্ট্রেস টেস্ট’ বা এক কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেকে সরিয়ে নেয়, তবে এই জোট কি টিকে থাকবে? যদিও আইনগতভাবে ট্রাম্পের পক্ষে একক সিদ্ধান্তে ন্যাটো ত্যাগ করা কঠিন, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি জোটের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারেন। মার্কিন সাহায্য পাওয়ার নিশ্চয়তা (আর্টিকেল ৫) নিয়ে ইতোমধ্যেই মিত্রদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া ইউরোপে মোতায়েন করা ৮৪ হাজার মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও ন্যাটোর ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে নেই। রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় গত পাঁচ বছরে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৬২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইউরোপ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল। এই ঘাটতি পূরণে পরবর্তী এক দশকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।
সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ন্যাটো কেবল ইউরোপকে সুরক্ষা দেয় না, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক স্বার্থও রক্ষা করে। নাইন-ইলেভেনের পর ন্যাটোর দেশগুলোই আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি বর্তমান ইরান যুদ্ধেও ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের ‘গ্রিনল্যান্ড দখল’ বা জোট ত্যাগের হুমকির ফলে ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতা এখন খাদের কিনারায়।