ফ্রান্সের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জর্ডান বারদেলা ও ইতালীয় সোশ্যালাইট প্রিন্সেস মারিয়া-ক্যারোলিনা অব বোরবন-টু সিসিলিসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে সেলিব্রিটি ম্যাগাজিন প্যারিস ম্যাচ। ম্যাগাজিনটির এবারের প্রচ্ছদে 'কর্সিকায়' সাম্প্রতিক ছুটির সময় তোলা এই যুগলের ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘অপ্রত্যাশিত সেই প্রেমকাহিনি’। এ প্রকাশের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক এখন কার্যত প্রকাশ্যে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিবিসি জানিয়েছে, জানুয়ারিতে প্যারিসে লে ফিগারো পত্রিকার ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। তবে ৩০ বছর বয়সী র্যাশেম্বলেমঁ নাসিওনাল (আরএন) দলের প্রধান বারদেলা সবসময়ই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে এটিকে নিজের ‘শেষ ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জায়গা’ বলে উল্লেখ করতেন।
প্যারিস ম্যাচের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এবার সেই সম্পর্ককে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বারদেলা, যদি জুলাইয়ে আদালত আরএন নেত্রী মেরিন লে পেনকে ইইউ তহবিলের অপব্যবহারের মামলায় অযোগ্য ঘোষণা করেন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যেকোনো আরএন প্রার্থীই নির্বাচনে ভালো অবস্থানে থাকতে পারেন।

প্রেস বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনী দৌড়ে নামার আগে বারদেলার ব্যক্তিগত জীবন স্পষ্ট থাকা জরুরি, বিশেষ করে তিনি ইলিসে প্রাসাদের সম্ভাব্য ফার্স্ট লেডি হিসেবে কাকে পাশে রাখতে পারেন তা নিয়েও জনমনে স্বচ্ছতা দরকার।
প্রসঙ্গত, ২২ বছর বয়সী মারিয়া ক্যারোলিনা ইতালির ঐতিহাসিক বোরবোঁ-টু সিসিলিস রাজবংশের উত্তরাধিকারী পরিবারের সদস্য। ইতালিতে তাঁর রাজকীয় উপাধির কোনো আইনি স্বীকৃতি না থাকলেও তিনি ইউরোপীয় অভিজাত সমাজে পরিচিত মুখ। তিনি ফ্রান্সের বিখ্যাত রাজা চতুর্দশ লুইসের দূরবর্তী বংশধরও।
রোম, মোনাকো ও প্যারিসে বেড়ে ওঠা মারিয়া ক্যারোলিনা ছয়টি ভাষায় কথা বলতে পারেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিপুল অনুসারী রয়েছে। ফ্যাশন ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে মোনাকোর গ্রাঁ প্রিতে তাদের প্রথম দেখা হয়। সাময়িকীটি এই জুটিকে ‘একবিংশ শতাব্দীর নতুন রাজকীয় প্রেমের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আলোচিত এইপ্রেমের একদিকে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এক রাজনীতিক, অন্যদিকে অভিজাত রাজকুমারী।